• লখনৌ নীল ড্রাম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের দাবি, ‘গলতি সে মিসটেক’, বাবাকে নিয়েও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য
    এই সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • পুরো ঘটনাই নাকি ‘গলতি সে মিসটেক’, অর্থাৎ ভুল করে হয়ে গিয়েছে। লখনৌ নীল ড্রাম মার্ডার-এ (Lucknow Blue Drum Case) অভিযুক্ত অক্ষতপ্রতাপ সিং (Akshat Pratap Singh) বৃহস্পতিবার নিজের সাফাইয়ে এই কথাই বলেছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, হত্যাকাণ্ডের আগে বাবা মানবেন্দ্র সিংই (Manvendra Singh) নাকি গুলি করে মারতে চেয়েছিলেন তাঁকে, বলেও দাবি করেছেন অভিযুক্ত।

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন লখনৌয়ের ‘বর্ধমান প্যাথলজি’-র মালিক মানবেন্দ্র প্রতাপ সিং। তাঁর সন্ধানে নেমেই নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির ছোট ছেলে অক্ষতপ্রতাপ সিংয়ের গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একটি নীল ড্রাম। তার মধ্যেই ছিল নিখোঁজ মানবেন্দ্রর টুকরো টুকরো করা দেহ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় পুলিশের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন অভিযুক্ত অক্ষতপ্রতাপ।

    অভিযোগ, বাবা মানবেন্দ্র সিং (৫০)-কে গুলি করে খুনের পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর হাত, পা কেটে ফেলেছিলেন ছোট ছেলে অক্ষতপ্রতাপ সিং। হাত আর পা-ও আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলে দেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। বাকি দেহাংশ নীল ড্রামে রাখা ছিল। খুনে ব্যবহৃত রাইফেলটি মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলেন অক্ষত। শুধু তাই নয়, বাবার কাটা মাথা নিয়ে প্রায় ২১ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে (Drive) একটি জঙ্গলে ফেলেও এসেছিলেন তিনি। ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বাবার সঙ্গে প্রবল বচসা হয়েছিল অক্ষতের। প্রথমে অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন, NEET পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বচসা হয়েছিল। কিন্তু পরে তদন্তে উঠে আসে ঝগড়ার আসল কারণ।

    তদন্তকারীদের দাবি, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে, মানবেন্দ্র সিং বাড়ি ফিরে দেখেন, ৫০ লক্ষ টাকা নগদ নেই। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি জানতে পারেন, মদের লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য টাকাটা অক্ষতই চুরি করেছেন। তবে এই প্রথম নয়, আগেও একাধিক বান্ধবীকে দামি উপহার কিনে দেওয়ার জন্য টাকা ও গয়না চুরি করেছিলেন অক্ষত। অভিযুক্তের দাবি, নতুন করে ৫০ লক্ষ টাকা চুরির কথা শোনার পর বাবা তাঁকে থাপ্পড় মারেন এবং তার দিকে পিস্তল তাক করেন। তাতেই মেজাজ হারিয়ে পরে বাবাকে ঘুমের মধ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন অক্ষত।

    তদন্তকারীদের দাবি, বাবা মানবেন্দ্রকে খুনের পর দেহ কেটে ফেলে লোপাট করার সময়ে অক্ষতকে দেখে ফেলেছিলেন তাঁর বোন। কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে ভয় দেখানোয় তিনি চুপ করে ছিলেন। তাই অভিযুক্তের সঙ্গে মৃতের মেয়ের যুক্ত থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে অক্ষত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, বোন নির্দোষ। তিনি কিছুই জানেন না।

  • Link to this news (এই সময়)