• ‘ভাষণ নয়, ইনসাফ চাই’, পিলখানায় প্রোমোটার খুনে দাবি পরিবারের
    এই সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: রেললাইনের (Rail Line) উপরে রিজওয়ানুর রহমানের দেহ মেলার পরে ইনসাফের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন মা কিশওয়ার জাহান। তা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য–রাজনীতিতে। তার অভিঘাতে পদ ছা়ডতে হয়েছিল কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়–সহ একাধিক পুলিশ কর্তাকে। হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনের পরে সেই ইনসাফের দাবি তুলেছেন পরিবারের লোকেরা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পথে নেমেছেন এলাকার মানুষ। রিজওয়া‍নুরের রহস্যমৃত্যু (Mysterious death নিয়ে যে ভাবে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, বুধবার প্রায় একই রকম ঘটনার সাক্ষী থাকলেন হাওড়ার মানুষ।

    অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর পাশাপাশি দফায় দফায় পথ অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বিক্ষোভ সামাল দিতে নামাতে হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তার মধ্যেই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ সামনে চলে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। প্রোমোটার খুনের ঘটনায় এই মুহূর্তে কার্যত ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে হাওড়ার পিলখানা (Pilkhana)। দুষ্কৃতীরা যে ভাবে খুব কাছ থেকে স্থানীয় প্রোমাটার এবং জিন্সের কারবারি মহম্মদ সফিক খানকে (২৭) গুলি করে হত্যা করেছে, সেটা দেখার পরে গর্জে উঠেছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই আবার মহিলা।

    পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নিহতের আত্মীয়রা। রিজওয়ানুর কাণ্ডের মতোই সফিকের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের মুখে এ দিন শোনা গিয়েছে ইনসাফের কথা। তিনি বলেন, ‘এখন নেতারা কোথায়? নেতারা শুধু ভোটের সময় আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেন। আমরা নেতাদের ভাষণ শুনতে চাই না। আমরা ইনসাফ চাই। আমরা হারুন ও রোহিতের ফাঁসি চাই। আমার মেয়েটাকে যেমন বিধবা করেছে, আমার নাতিকে পিতৃহারা করে ছেড়েছে, ওদের পরিবারেরও যেন একই দশা হয়। পুলিশ যদি ইনসাফ দিতে না পারে আমাদের হাতে ছেড়ে দিক।’ তাঁর আরও দাবি, রোহিত ও হারুন পাকিস্তানের নাগরিক। সারাক্ষণ ওদের কাছে বন্দুক থাকে। তবু পুলিশ ওদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় না।’

    মা মমতাজ বেগম হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘পুলিশ যদি অপরাধীদের না ধরে, তা হলে এলাকার মানুষই তাদেরকে ধরিয়ে দেবে। আমরা অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড চাই।’ স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘পিলখানা এলাকায় এর আগেও অনেক ছোটখাটো অশান্তি হয়েছে, কিন্তু এ ভাবে গুলি চালিয়ে একজন ব্যবসায়ীকে খুন করে চলে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনার পর আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

  • Link to this news (এই সময়)