আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা থামছেই না। আবারও ঘটনাস্থলে সেই ওড়িশা। এবার বাংলার দুই মাইক্রো অবজার্ভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নয়াগ্রাম ব্লকে কর্মরত ছিলেন ওই দুই মাইক্রো অবজার্ভার। বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ছেলে ধরা সন্দেহে তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে ওড়িশার জলেশ্বরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য পুলিশের তরফে ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আক্রান্ত দুই মাইক্রো অবজার্ভারকে বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত দুই মাইক্রো অবজার্ভার হলেন, কৌশিক হাঁসদা ও সমীক হাজরা। পূর্ব বর্ধমানের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্মরত সমীক এবং নয়াগ্রামে মাইক্রো অবজার্ভারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন কৌশিকও। গতকাল বুধবার ব্যক্তিগত কাজেই ওড়িশার বালাসোর জেলার রাজনগর এলাকায় গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানেই ছেলে ধরা সন্দেহে দু'জনকে মারধর করা হয়। এমনকী কয়েক ঘণ্টা দু'জনকেই আটকে রাখা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বরে বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে ফের হেনস্থা করা হয়েছিল। আবারও বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে ভয়ঙ্কর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিক।
আহত শ্রমিকের নাম, আতিউর রহমান। তিনি মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আতিউরের বাবা আমির হোসেন জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে ওড়িশার সম্বলপুরে রাজমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করছিলেন আতিউর। সেখানেই বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে দুষ্কৃতীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। আহত আতিউরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরই এক সহকর্মী। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সহকর্মীরাই আহত আতিউরকে মালদহে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা।
ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশা স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর হাতে মার খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে এক যুবকের। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগে ফের একবার ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে ধরার পর, তাঁদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। পরবর্তীকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা উদ্ধার পেলেও প্রাণহানির আশঙ্কায় তাঁর আর ওড়িশায় থাকেননি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বেলডাঙ্গা বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা, ওই চার পরিযায়ী শ্রমিক ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ফিরে এসেছেন। মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ঝারসুগুদা জেলার একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে।