সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য ডুয়ার্স থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পেরে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন পদ্মশ্রী করিমুল হক। সেই শোক কাটাতে না পেরে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য পরবর্তীতে একটি বাইক কিনে সেই বাইককেই বানিয়ে নেন অ্যাম্বুলেন্স। যার নাম দেন বাইক অ্যাম্বুলেন্স। প্রত্যন্ত গ্রাম, চা বাগানের মুমূর্ষু রোগীকে সেই বাইকে বসিয়েই নিটকবর্তী হাসপাতালে পৌঁছে দেন করিমুল। তাঁর একটাই লক্ষ্য, তাঁর মায়ের মতো চিকিৎসা না পেয়ে আর কোনো মায়ের যেন মৃত্যু না হয়। বুধবার দিনভর মালবাজারে করিমুলের বায়োপিক নিয়ে ঠিক এমনই দৃশ্যের শুটিং করলেন অভিনেতা সাংসদ দেব।
কয়েকদিন ধরেই ডুয়ার্সের কিলকট চা বাগান সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিনেতা দেবকে করিমুল হকের বায়োপিক নিয়ে শুটিং করতে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতলে শুটিং করেছেন দেব ওরফে দীপক অধিকারী। বুধবারও তিনি মালবাজারে শুটিং করলেন। মঙ্গলবার রাতে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে শুটিংয়ে দেবকে দেখা যায় মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। করিমুল হকের চরিত্রে থাকা অভিনেতা দেব তাঁর মাকে এই হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। ২০০৭ সালের সেই পরিবেশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। সেই সময় চিকিৎসক করিমুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর মাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। একটি অ্যাম্বুলেন্স চালককে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া জিজ্ঞেস করেছিলেন করিমুল। সেই চালক যে ভাড়া চেয়েছিলেন সেটা তাঁর দেওয়ার সামর্থ ছিল না। তখন তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে তাঁর মা মারা যান। এই দৃশ্যেরই মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে শুটিং করেছিলেন দেব।
করিমুল হক পেশায় ওই সময় একটি ছোট চা বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। টাকা জমিয়ে মালবাজারের একটি বাইকের শোরুম থেকে পরবর্তীতে একটি বাইক কিনেছিলেন। সেই বাইকটিই পরে দু’চাকার অ্যাম্বুলেন্সে পরিণত করেন। বুধবার সেই শোরুমে গিয়ে বাইক কেনার শুটিং করেন অভিনেতা দেব। এরপরই তিনি সেই বাইকে অসুস্থ এক রোগীকে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার শুটিংও করেছেন। এদিকে, গতক’দিন ধরেই দেবকে দর্শন করতে তাঁর অনুগামীদের ভিড় উপচে পড়ছে প্রতিটি শুটিং স্পটে। যা সামাল দিতে রীতিমতো পুলিশকে কোথাও কোথাও হিমশিম খেতে হচ্ছে।