আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিলখানার প্রোমোটার সফিকুল খান খুনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও মূল দুই অভিযুক্ত হারুন ও রোহিদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারই প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোলাবাড়ি থানা চত্বর। হাওড়া জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে এদিন বিশাল মিছিল করে থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ পিলখানার ওড়িয়াপাড়া থেকে বিজেপির একটি বিশাল মিছিল গোলাবাড়ি থানার দিকে অগ্রসর হয়। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে আগে থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তৈরি করা হয়েছিল মজবুত ব্যারিকেড। মিছিল থানার কাছে পৌঁছতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিজেপি কর্মীরা ব্যারিকেডের উপর উঠে পড়েন এবং তা ভাঙার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিতে গেলে শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মাইকে বারবার ঘোষণা করে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।
উল্লেখ্য তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার রাতেই কলকাতা থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলো বিলাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও মূল ঘাতক হারুন ও রোহিদ এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সিটি পুলিশের কমিশনার আকাশ মাগারিয়া।
চলতি সপ্তাহের বুধবার সকালে পিলখানায় প্রকাশ্যে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে সফিকুল খানকে লক্ষ্য করে পর পর ৬ রাউন্ড গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, হারুন ও রোহিদ নৃশংসভাবে গুলি চালিয়ে চম্পট দিচ্ছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সফিকুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।বিজেপির দাবি, এলাকায় দুষ্কৃতীরাজ চলছে এবং পুলিশ মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। যতক্ষণ না মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।