মিল্টন সেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘ সময় ধরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছিল অন্যের অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য হুগলির চুঁচুড়া বিধানসভার রাজহাট পঞ্চায়েত এলাকায়। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না উপভোক্তা। প্রাপ্ত ভাতা থেকে বঞ্চিত রাজহাটের বাসিন্দা সাহেবা খাতুন। তাঁর দাবি, তাঁর নামে অনুমোদিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দীর্ঘদিন ধরে অন্য এক জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে সাহেবা খাতুন লক্ষ্মী ভাণ্ডার-এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাঁর নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা পড়েনি। এলাকায় অন্যান্য মহিলারা যখন নিয়মিতভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ তখনও তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় সন্দেহ হয়।
এরপর বিষয়টি তিনি তাঁর দাদাকে জানান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে লক্ষ্মী ভাণ্ডারের সরকারি ওয়েবসাইটে আধার নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়। তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য- আধার নম্বর এবং নাম সাহেবা খাতুনের হলেও সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দেখা যায় অন্য একজনের। সেই অ্যাকাউন্টেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের টাকা জমা পড়ছে। ঘটনার পর সাহেবা খাতুন তাঁর স্বামী শেখ হায়দার আলীকে নিয়ে চুঁচুড়ার মহকুমা শাসকের অফিসে অভিযোগ জানান। কিন্তু এসআইআরের কাজে আধিকারিকেরা ব্যস্ত থাকায় কাজের কাজ কিছুই হয় না।
আধিকারিকদের বক্তব্য, “ভুল তাঁদের নয়। তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা, অথচ অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। সেই ব্যক্তিকে তিনি কোথা থেকে খুঁজে বের করবেন?” উপভোক্তার স্বামী শেখ হায়দার আলীর অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনা। তাঁর দাবি, “কেউ বা কারা আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে অন্য অ্যাকাউন্ট নম্বর বসিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাৎ করছে।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে আধার নম্বর ও নাম সঠিক থাকা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে গেল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবার। এই প্রসঙ্গে তৃনমূল নেতা জয়দেব অধিকারী বলেন, "যেহেতু পোর্টালে উঠে গেছে তাই একাউন্ট নম্বর ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাচ্ছে না। এখনও পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় আরও সমস্যা হচ্ছে। এসআইআর মিটে গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে আশা করা যায়।"