বিভাস ভট্টাচার্য: পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। একবার এই চিকিৎসক থেকে ওই চিকিৎসক। ওষুধে সাময়িক ব্যাথার নিবৃত্তি। কিন্তু এরপর আবার ব্যাথা ফিরে আসা। শেষপর্যন্ত পরিচিতদের পরামর্শে টালিগঞ্জে এম আর বাঙ্গুর হসপিটালে আসা। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সমস্যা গভীরে। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে ৭৫ বছর বয়সী এই মহিলা রোগী 'গলব্লাডার স্টোন'-এর সমস্যায় ভুগছেন। যার জেরেই রোগী অসহ্য পেটে যন্ত্রণা এবং বমির সমস্যায় ভুগছেন।
চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, রোগীর অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনও পথ নেই। কিন্তু সেখানেও সমস্যা রয়েছে। রোগী উচ্চ রক্তচাপ এবং সুগার-এর সমস্যায় ভুগছেন। যেটা নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। সেই মতো ওষুধ দিয়ে এই দুটি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরপরই অস্ত্রোপচার করা হয় তাঁর। বের করে আনা হয় গলব্লাডারে জমে থাকা পাথর। আপাতত সুস্থ আছেন ওই রোগী। হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
এবিষয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর বলেন, "এটা একটা সমবেত প্রচেষ্টার ফল। চিকিৎসক বা নার্সিং স্টাফ ছাড়াও ওয়ার্ড বয় এবং অন্যরাও সমানভাবে তাঁদের কাজ করেছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হওয়ার জন্য রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়েছে।"
হাসপাতালের সার্জেন ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকারের নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার হয়। এই অস্ত্রোপচার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "গলব্লাডার স্টোন অপারেশন এর আগে বহু করেছি। কিন্তু একসঙ্গে এত পাথর এর আগে কখনও পাইনি। প্রায় ২০০০-এর কাছাকাছি পাথর রোগীর গলব্লাডার থেকে বেরিয়েছে। ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি করা হয়েছে। ওঁর পেট থেকে শেষ পাথর বের করে আনতেই লেগেছে আধ ঘণ্টার বেশি সময়। সফলভাবেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে। রোগীর বাড়ির লোকও খুশি।"
ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার ছাড়াও ছিলেন ডাঃ ইন্দ্রানী দেবনাথ, ডাঃ অনুভব সাহা এবং ডাঃ মহিবুল্লা। ছিলেন অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডাঃ ব্রজেন্দ্রনাথ দাস, ডাঃ হিমালয় দত্ত, ডাঃ সরফরাজ রহমান এবং ডাঃ শাহারিয়ার। ছিলেন দুই নার্স অন্বেষা জানা এবং অসীমা দাস।