এই সময়, হাওড়া: পিলখানার প্রোমোটার সফিক খানের খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ হারুন খানের নাগরিকত্ব নিয়েই এ বার প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হারুনের জন্ম পিলখানাতে হলেও তার বাবা একজন আফগান নাগরিক। মা অবশ্য এ রাজ্যেরই বাসিন্দা। ফলে হারুন আদৌ এ দেশের নাগিরক কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। এরই মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হারুনের একটি মন্তব্যকে ঘিরে জলঘোলা শুরু হয়েছে। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আই লাভ আফগানিস্তান’ (আমি আফগানিস্তানকে ভালোবাসি)। যদিও তাঁর পরিবারের লোকেদের দাবি, হারুন বহু বছর ধরেই হাওড়ার বাসিন্দা। মাদারতলা লেনে একটি ভাড়া বাড়িতে তাঁরা এখন বসবাস করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হারুন কয়েক বছর আগেও আফগানিস্তানের কাবুলে ছিলেন এবং সাত-আট বছর আগে ভারতে আসেন। তবে এই দাবির সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হারুনের সঙ্গে উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ছবি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য–রাজনীতিতে। যদিও গৌতম সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, হারুন কিংবা রোহিত, দু’জনের কাউকেই তিনি চেনেন না। তবে পিলখানায় একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে হারুনের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল বিধায়ককে। বৃহস্পতিবার আরও একটি ছবি সামনে এসেছে, যেখানে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের পাশে হারুনকে দেখা গিয়েছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হারুন নিজেকে একজন কন্ট্রাক্টর ও বিল্ডার হিসেবে পরিচয় দিত। হাওড়ার সেন্ট থমাস চার্চ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র বলে দাবি করে থাকে হারুন। হিন্দি, উর্দু ছাড়াও পুশতু ভাষায় তার দক্ষতা রয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদারি এবং প্রোমোটারি ব্যবসায় নাম লেখালেও গরিবদের জামাকাপড় দেওয়া, ছাত্রছাত্রীদের ব্যাগ ও খাতা–পেন বিলি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করতে শুরু করেছিল হারুন। তৃণমূলের বিভিন্ন মিটিং–মিছিলেও তাকে নিয়মিত দেখতে পাওয়া যেত। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ছাড়াও অনেক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল। গোলাবাড়ি থানার এক আধিকারিকের কথায়, ‘হারুনের মধ্যে নেতা হওয়ার বাসনা রয়েছে। প্রোমোটারি, ঠিকাদারি এবং তোলাবাজি করে যে টাকা রোজগার করত, তার একটা ব়ড অংশই সে গরিবদের দান করে দিত। ‘ইউথ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামে তার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করে থাকে। তাতে শাসকদলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেই সঙ্গে দু’হাতে পয়সা ওড়াত। তার অনুগামীর সংখ্যাও অনেক ছিল। কিন্তু টাকা রোজগারের নেশা এবং এলাকায় নিজের দাপট বজায় রাখতেই খুনের কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে হারুন।’
উত্তর হাওড়ার বিজেপি নেতা উমেশ রায় বলেন, ‘হারুন খানকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ তৃণমূলের যুবনেতা হিসেবে জানে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর আশীর্বাদেই হারুন ও তার দলবল এলাকায় মস্তানি করে বেড়াত। যে প্রোমোটার খুন হয়েছে সে অন্য একটা গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দু’টি গ্যাংয়ের লড়াইয়ে খুন হয়েছেন প্রোমোটার।’
বিধায়ক গৌতম চৌধুরী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, হারুন তৃণমূলের কোনও পদে নেই এবং সে একজন অপরাধী। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।