• DNA পরীক্ষায় মা–বাবার খোঁজ, তবু দত্তক দিতে উদ্যোগ, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ CWC-র বিরুদ্ধে
    এই সময় | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: কলকাতা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি) রিপোর্ট দিয়েছে, রাস্তা থেকে পাওয়া সদ্যোজাতের মা–বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই তাকে দত্তক দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। আবার রাজ্য সরকার রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে, হাইকোর্টে মামলাকারী দম্পতির রক্তের নমুনার সঙ্গে ওই শিশুর রক্তের নমুনা মিলে গিয়েছে ডিএনএ পরীক্ষায়। একই মামলায় সরকারেরই দু’রকম রিপোর্ট দেখে বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন সময়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত হওয়া এমন শিশুদের বিক্রি করে দেওয়া–সহ নানা অভিযোগ ওঠে। এ ক্ষেত্রে সে রকমই ইঙ্গিত করে সিডব্লিউসি–কে কাঠগড়ায় তুলেছে হাইকোর্ট।

    বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বক্তব্য, ‘রাজ্য যেখানে ডিএনএ রিপোর্ট ইতিবাচক বলে জানাচ্ছে, সেখানে সেই রিপোর্ট গ্রাহ্য না–করে, এমনকী পুলিশের কোনও মতামত না–নিয়ে কী ভাবে ওই সদ্যোজাতকে সিডব্লিউসি দত্তক দেওয়ার জন্য পাঠল?’ তার পরেই আদালতের মন্তব্য, ‘এ ভাবেই এমন বাচ্চা বিক্রি হয়ে যায়।’

    সিডব্লিউসি–র আইনজীবী বিষয়টিকে ‘টেকনিক্যাল ভুল’ বলে বোঝানোর চেষ্টা করলে আদালতের ক্ষোভ চরমে ওঠে। বিচারপতি রাওয়ের বক্তব্য, ‘কোনও টেকনিক্যাল ত্রুটি নয়, এটা ইচ্ছাকৃত। চেয়ারম্যান–সহ সিডব্লিউসি–র সকল সদস্যকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে ওই শিশুকে নিয়ে আদালতে হাজির হতে হবে। চেয়ারম্যান এই পদের অযোগ্য।’ শেষ পর্যন্ত সিডব্লিউসি–র আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৬ মার্চ ওই শিশুকে নিয়ে সিডব্লিউসি হাইকোর্টে আসবে। মামলাকারী দম্পতিও নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টে আসবেন। বিচারপতি জানান, এজলাসে নয়, হাইকোর্টের সার্ধ শতবার্ষিকী ভবনের আটতলার সভাঘরে ওই শিশুকে নিয়ে আসতে হবে, সেখানেই হবে হস্তান্তর।

    আদালত সূত্রের খবর, মানিকতলা থানার পুলিশ গত বছর রাস্তার ধার থেকে এক সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে। পরিত্যক্ত হিসেবে তাকে পুলিশ তুলে দেয় সিডব্লিউসি–র হাতে। কিছু দিন পরে এক তরুণী নিজেকে ওই সন্তানের মা বলে দাবি করে সিডব্লিউসি–র দ্বারস্থ হন। কিন্তু তাঁর কথায় আমল না–দিয়ে অসুস্থ শিশুটিকে একটি হোমে রাখা হয়। এরই মধ্যে এক তরুণী নিজেকে ওই শিশুর মা এবং তাঁর সঙ্গী এক তরুণ নিজেকে বাবা বলে দাবি করে হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। এ সবেরই মধ্যে গত বছর নভেম্বরে সিডব্লিউসি ওই শিশুকে পরিত্যক্ত বলে চিহ্নিত করে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। ফের মামলা হয় হাইকোর্টে। সেই মামলাতেই হাইকোর্ট রিপোর্ট তলব করে রাজ্যের কাছে। একই সঙ্গে সিডব্লিউসি–র কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হয়। এ দিন দু’টি রিপোর্ট জমা পড়ে হাইকোর্টে।

  • Link to this news (এই সময়)