• দোলের আগেই নতুন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বড় উপহার পাচ্ছে বাংলা
    এই সময় | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ব্যারাকপুর: দোলের আগেই রাজ্যবাসীকে বড় উপহার দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২ মার্চ তাঁর হাত ধরে উদ্বোধন হওয়ার কথা বহু প্রতীক্ষিত সুপারফাস্ট কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়ে নবরূপে তৈরি করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল হাইওয়ে ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। মোট খরচ হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে আগামী ৩ মার্চ দোলযাত্রার আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দোল ও হোলি (Holi) মিলন উৎসবে সামিল হবেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সেখান থেকেই তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে নবরূপে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক মহলের দাবি, এটাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দোল ও হোলির সবচেয়ে বড় উপহার রাজ্যবাসীর জন্য।

    বেলঘরিয়া-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে জংশন থেকে কাঁচরাপাড়া কাঁপা মোড় পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে মাত্র ৪০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যাবে। ছয় লেনের এই রাস্তা এ বার থেকে কোনও বাধা ছাড়াই যাতায়াত করা যাবে। এই ৪০ কিলোমিটার পথে একটিও ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। কারণ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই রয়েছে এলিভেটেড করিডর বা আন্ডারপাস। ফলে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হতে হবে না দ্বিমুখী এই এক্সপ্রেসওয়েতে।

    পশ্চিমবঙ্গ হাইওয়ে কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এক্সপ্রেসওয়ে উন্নত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। দ্বিমুখী এই এক্সপ্রেসওয়ের দুই ধারেই রয়েছে স্থানীয় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য সার্ভিস রোড ও স্লিপ রোড। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এলিভেটেড করিডর ধরে সরাসরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে আসা যাবে। এর পর মাত্র ৪০ মিনিটেই হুগলি নদীর উপরে ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর মাধ্যমে বাঁশবেড়িয়ার কাছে জাতীয় সড়ক-১২ এবং রাজ্য সড়ক-৬ ধরে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়া যাবে। নবনির্মিত এক্সপ্রেসওয়েতে তৈরি হয়েছে চারটি বড় ফ্লাইওভার, সাতটি বড় আন্ডারপাস ও ছ’টি ছোট আন্ডারপাস। এ ছাড়া আছে ৭০টি ছোট, মাঝারি কালভার্ট, একটি ট্রাক লে বাই এবং ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। গাড়িচালক ও যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচটি আধুনিক শৌচালয়।

    রাজ্য পূর্ত দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে যশোহর রোড ও বিটি রোডের বাইপাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। দমদম বিমানবন্দর থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন এ বার অতি সহজে কোনও বাধা ছাড়া কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। এই পুরো পথে একদিকে রয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর অন্যদিকে কল্যাণী এইমস। যা কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গের দিকে যাতায়াতকারী গাড়িগুলিকেই সুবিধা দেবে তা নয়। উত্তর শহরতলির বেলঘরিয়া, সোদপুর, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম এবং কল্যাণীতে পৌঁছানোর জন্য একটি দ্রুত বিকল্প পথ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)