• উদ্যোগী বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষাধিক বছর আগের অস্ত্রও দেখা যাবে সংগ্রহশালায়
    এই সময় | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, খড়্গপুর

    পাথরের হাতকুঠার, চাঁছুনি, ক্ষুদ্রাস্ত্র-এগুলি কোন ধরনের অস্ত্র। কারা ব্যবহার করতেন এই অস্ত্রগুলি, এই অস্ত্রগুলির নাম শোনার পর থেকে এমনই সব প্রশ্ন তখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু তার সমাধান মিলল। জানা গেল, এই সব অস্ত্র নিয়েই এ বার সংগ্রহশালা তৈরি করছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ। ওই সংগ্রহশালায় গেলেই দেয়া যাবে এই সব অস্ত্রগুলি। জানা যাবে এই সব অস্ত্রের কাহিনিও। লক্ষাধিক বছর আগে কেমন অস্ত্র ব্যবহার করত মানুষ। ঝাড়গ্রাম, তারাফেনি, সুবর্ণরেখার অববাহিকার দু'ধারে থাকা প্রাগৈতিহাসিক মানুষের সেই সমস্ত অস্ত্রের সম্ভার নিয়েই এই সংগ্রহশালা।

    জানা গিয়েছে, এই সংগ্রহশালায় লক্ষাধিক বছর থেকে চার হাজার বছর আগে পর্যন্ত ব্যবহৃত মানুষের অস্ত্র দেখতে পারবেন গবেষক ও উৎসাহী মানুষজন। সে লক্ষ্যেই এই বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাগৈতিহাসিক পুরাতাত্ত্বিক গবেষণাগার ও সংগ্রহশালা তৈরি করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত আর্কিওলজিস্ট দিলীপকুমার চক্রবর্তীর। এই ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে নতুন পালক বলেই মনে করছেন অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা।

    দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অভিক বিশ্বাস। অধুনা ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষ কেমন পাথরের অস্ত্র ব্যবহার করতেন? তা নিয়েই তাঁর গবেষণা। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময়ে পাথরের হাতকুঠার, চাঁছুনি, ক্ষুদ্রাস্ত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহে প্রায় এক হাজারের মতো এমন অস্ত্র রয়েছে। যেগুলি পুরপ্রস্তর, মধ্যপ্রস্তর এবং নব্য প্রস্তর যুগে ব্যবহৃত হতো। কখনও তা আত্মরক্ষার জন্য আবার কখনও শিকারের জন্য এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার হতো। ঠিক হয়েছে, প্রথমে সেই সংগ্রহের ৩০০টির মতো অস্ত্র সংগ্রহশালায় রাখা হবে। ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হতে পারে। নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সংগ্রহশালা থাকলেও নির্দিষ্ট একটি বিভাগে এই ধরনের সংগ্রহশালা নেই বললেই চলে। এই সংগ্রহশালা পড়ুয়া ও গবেষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নতুন কিছু করার তাগিদের আশা বাড়াবে।'

    নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের পক্ষ থেকে আরও দু'টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তার মধ্যে একটি হলো বিভাগীয় গ্রন্থাগার। অন্যটি স্যানিটারি প্যাড ব্যাঙ্ক। এই গ্রন্থাগারে প্রয়োজনীয় বই তো থাকবেই, তার সঙ্গে তৈরি করা হবে 'টি ক্লাব'। যাতে চা বা কফি খেতে খেতে পড়ুয়ারা পড়াশোনা করতে পারেন। তাতেই পড়াশোনায় মনসংযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি সুমহানের। আর 'স্যানিটারি প্যাড ব্যাঙ্ক' থেকে মিলবে নিখরচায় প্যাড। নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ এই ব্যাঙ্ক তৈরি করলেও যার সুবিধে পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পড়ুয়া, শিক্ষিকা এবং অতিথিরাও। যে ব্যাঙ্কের দেখভালের জন্য রাখা হবে একজন মহিলা কর্মীকে। যে কেউ সেখানে গিয়ে প্রয়োজনের কথা বললেই নির্দিষ্ট কেবিনেট থেকে তিনি প্যাড সরবরাহ করবেন। সুমহানের কথায়, 'বর্তমান সময়ে বিষয়টি নিয়ে ছুৎমার্গ অনেক কমলেও, কিছুক্ষেত্রে তা একেবারে নেই এটা বলা যাবে না। বিশেষত, গ্রামীণ এলাকার বহু ছাত্রী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। আমরা উপলব্ধি করেছি অনেক সময়ে হঠাৎ প্রয়োজনে ছাত্রীদের অসহায়তার দিকটি। তা থেকেই এমন উদ্যোগ।' আজ শুক্রবার এই দু'টিরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগে।

  • Link to this news (এই সময়)