• ‘সার’–এর শুনানির দায়িত্বে বেশিরভাগ বিচারক, ধুঁকছে বিচার প্রক্রিয়া
    এই সময় | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: বিচারকের পদ ১০টি। ফাস্ট ট্র্যাক (Fast Track) দ্বিতীয় এজলাসের বিচারক অনুপস্থিত থাকায় এই মুহূর্তে রয়েছেন ন’জন বিচারক। তাঁদের মধ্যে সাত জন বিচারককেই ‘সার’–এর (SIR) শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া সামলাচ্ছেন জেলা জজ ও ফাস্ট ট্র্যাক প্রথম এজলাসের বিচারক। ফলে কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে আসানসোল জেলা আদালতে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। বিরক্ত আইনজীবীরা জানেন না, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

    এই প্রসঙ্গে প্রধান সরকারি আইনজীবী স্বরাজ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ন’জন বিচারক প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০টি মামলার শুনানি করেন। তিন দিন ধরে খুব গুরুত্বপূর্ণ হাতে গোনা কয়েকটি মামলার কাজ ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ফলে বিচারপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। পকসো আদালতের (POCSO Court) সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল বলেছেন, ‘আসানসোল আদালতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পকসো আদালত। সেখানেও কোনও কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। যাঁরা বিচারপ্রার্থী, তাঁদের কাউকে কাউকে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ফোনে খবর দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’ তবে পকসো আদালতের অপর সরকারি আইনজীবী মিতা মজুমদার জানালেন, এখন পর্যন্ত বিশেষ সমস্যায় পড়তে হয়নি। কারণ ফাস্ট ট্র্যাক প্রথম এজলাসের বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার আসানসোল আদালতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, বহু বিচারপ্রার্থীই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বাঁকুড়া থেকে এসেছিলেন মানিক গোস্বামী। তিনি বললেন, ‘চেক বাউন্সের মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু কোনও কাজ হলো না।’ তিনি জানালেন, ভোর ছ’টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আদালতে (Court) পৌঁছেছেন। কাজ না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন। আদালতের সিনিয়র আইনজীবী রাজা দাস বিরক্তির সুরে জানালেন, মক্কেলদের সঙ্গে অনেক সময় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে তাঁরা আদালতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। গত তিন দিনে তাঁর তিনটি মামলার কাজ হয়নি। পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা আদালতেরও একই অবস্থা। আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ চিরঞ্জিৎ ভট্টাচার্য ‘সার’–এর শুনানির দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কালনার অতিরিক্ত জেলা জজের এজলাসে কো‍নও মামলার শুনানি হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)