• ‘শরীর ঠিকই ছিল...’, উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন ধনখড়
    এই সময় | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • গত বছরের জুলাইয়ে আচমকাই উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনখড় (Former vice president Jagdeep Dhankhar)। সেই নিয়ে দেশ জুড়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। রাষ্ট্রপতিকে (President Droupadi Murmu) লেখা পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা লিখলেও, অনেকেই তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার এই নিয়ে মুখ খুললেন ধনখড় (Jagdeep Dhankhar speaks out) নিজে। অসুস্থতার তত্ত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, শরীর খারাপের কারণে তিনি ইস্তফা দেননি।

    বৃহস্পতিবার রাজস্থানের চুরুতে একটি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। সেখানেই তিনি অসুস্থতার কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কথায় বলে, স্বাস্থ্যই সম্পদ। আমি সব সময়ে নিজের শরীরের খেয়াল রেখেছি। কখনও অবহেলা করিনি।’ এর পরেই ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। পদত্যাগপত্রের কোথাও বলিনি, অসুস্থতার কারণে পদ ছাড়ছি। শুধু লিখেছিলাম, স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। প্রত্যেকেরই তাই করা উচিত।’

    উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে ধনখড় একবার বলেছিলেন, ‘বড়সড় কিছু না ঘটলে ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করব।’ কিন্তু ২০২৫-এর ২১ জুলাই আচমকাই তিনি রাষ্ট্রপতিকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। বিচারপতি যশবন্ত বর্মার ইম্পিচমেন্ট নিয়ে রাজ্যসভায় বিরোধীদের আনা প্রস্তাব সরকারের সঙ্গে আলোচনা না-করেই গ্রহণ করে নিয়েছিলেন ধনখড়। এতে প্রবল ক্ষুব্ধ হয় কেন্দ্রের সরকারপক্ষ। ধনখড় ইস্তফা না দিলে, তাঁকে সরানোর জন্য NDA-র তরফে প্রস্তাব আনার পরিকল্পনাও হচ্ছিল।

    ধনখড়ের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে। মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরোধিতা এবং কৃষকদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁর উপরে কোপ পড়েছে। ২১ জুলাই বিকেল ৫টার কিছু আগে রাজ্যসভার সচিবালয়ে একটি মুখবন্ধ খাম পৌঁছয়। তাতে নাকি ১৩৪ জন সাংসদের সইও ছিল। অবশ্য এর সত্য-মিথ্যা জানা যায়নি।

    লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি বলেছিলেন, ‘বড়সড় কোনও কারণ রয়েছে। আমরা অনেকেই তা জানি।’ ইস্তফা দিয়েই কার্যত লোকচক্ষুড় আড়ালে চলে গিয়েছিলেন ধনখড়। সেই নিয়েও খোঁচা দিয়ে রাহুল বলেছিলেন, ‘রাজ্যসভায় এত সরব ছিলেন। কিন্তু এখন চুপ কেন? প্রকাশ্যে এসে সত্যিটা বলুন।’ অবশেষে রাজনৈতিক শোরগোল শান্ত হওয়ার পরে মুখ খুললেন ধনখড়। কিন্তু কেন তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন, তার কোনও ব্যাখ্যা দেননি।

  • Link to this news (এই সময়)