অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ নিয়ে একটা আস্ত অধ্যায় রেখেছিল NCERT। ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। প্রবল ক্ষুব্ধ হন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচরপতি। শেষ পর্যন্ত বইটি নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং NCERT-র বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে আদালত অবমাননার মামলা। তবে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, বই লেখার আগে এই বিষয়ে প্রাক্তন বিচারপতি বা প্রবীণ আইনজীবীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল কিনা। অবশেষে সামনে এল তার উত্তর। জানা গেল, বিশেষজ্ঞ প্যানেলে একজন আইনজীবীও ছিলেন।
বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে বলে অষ্টম শ্রেণির বইতে উল্লেখ করা হয়েছিল। বই লেখার আগে বিষয়বস্তু, অধ্যায় ইত্যাদি নির্ধারণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল। কিছুটা শ্লেষের সঙ্গে NCERT জানিয়েছে, সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে নতুন অধ্যায় রাখার আগে আইনজীবী বা বিচার বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। তবে প্যানেলে একজন আইনজীবীও ছিলেন।
বিতর্ক নিয়ে NCERT-র এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের যে দল ওই অধ্যায় লিখেছিলেন, তাতে একজন আইনজীবীও ছিলেন। তবে আইন জগতের সঙ্গে যুক্ত কারও কাছ থেকে বইটি রিভিউ করানো হয়নি।’ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে লিখলে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত কি না, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জবাবে ওই কর্তা বলেন, ‘পাঠ্যবই তৈরির ক্ষেত্রে এমন কোনও নিয়ম নেই।’
উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্স বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি’ নামে একটি অংশ ছিল। অভিযোগ, সেখানে সরাসরি লেখা ছিল, বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত। শুধু তাই নয়, লক্ষ লক্ষ মামলা জমে থাকার জন্য দায়ী করা হয়েছিল বিচার ব্যবস্থার ঢিলেমিকে।
এর পরেই গত বুধবার বিষয়টি ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে NCERT-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এর পরেই বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে যে বইগুলি বিক্রি হয়েছে, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। বিতর্কিত এই অধ্যায় লেখার পিছনে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের দাবি, বিচার ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করতে এটা ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’।