• পুলিশের তৎপরতায় আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস
    আজকাল | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতারণা করতে নিত্যনতুন নানা ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। আর তাতেই বিভ্রান্ত হয়ে পা দিচ্ছেন মানুষ। সাবধান করলেও লাভের লাভ হচ্ছে না। ফলে খোয়া যাচ্ছে জীবণের সঞ্চয়। এমনই এক জালিয়াতদের খপ্পরে পড়ে ২০ লাখ টাকা খোয়ালেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার! পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ছয় জনকে।

    কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, গড়ফার এক প্রবীণ বাসিন্দা সাইবার জালিয়াতদের খপ্পর এড়াতে পারেননি। ফেসবুকে একটি তথাকথিত ‘পেনশন কার্ড’-এর বিজ্ঞাপন ক্লিক করতেই বিপদে পড়েন তিনি। 

    ফেসবুকের ওই বিজ্ঞাপমনে ক্লিক করার কিছুক্ষণের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন একটি নামী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তথাকথিত প্রতিনিধি। কার্ড পেতে হলে কী করতে হবে তা বাতলে দেন। কটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। এই অ্যাপ-ই আসলে একটি APK (Android Package Kit) ফাইল, যা ব্যবহার করে প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের ফোন এবং তাতে বসানো ব্যাঙ্কিং অ্যাপ-এর দখল নিয়ে নেয় জালিয়াতরা। গায়েব হয়ে যায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ২০ লাখ টাকা।

    এই ঘটনা চলতি মাসের ৭ তারিখের। মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বিবাগের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। প্রায় দু-সপ্তাহ ধরে চলে নিরলস প্রযুক্তি প্রহরা এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য ঘাঁটাঘাঁটি। এরপর সন্ধান মেলে এক অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত সাইবার প্রতারণা চক্রের। 

    সেই সূত্রেই ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় সায়ন রাজবংশী, অরিন্দম দাস, শৌভিক ব্যাপারী এবং অর্পণ দাসকে। জালিয়াত চক্রের পান্ডাদের ব্যবহারযোগ্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সিম কার্ড সরবরাহ করাই ছিল ধৃতদের কাজ। তদন্ত এগোতেই একই কারণে এন্টালি থানার এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় দিলদার আনসারি এবং অনীশ সরকারকেও। তদন্ত জারি থাকবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। 

     
  • Link to this news (আজকাল)