সন্তানহারা মা, সাবিনা ইয়াসমিন। ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয়োৎসব থেকে ছোড়া বোমায় মৃত্যু হয়েছিল যাঁর মেয়ে তামান্নার। মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতে এখনও অনড় সাবিনা কি এবার বিধানসভা ভোটের প্রার্থী? bangla.aajtak.in-কে জানালেন নিজেই।
CPIM-এর টিকিটে কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনে ভোটে লড়ছেন?
তামান্নার মা বলেন, 'মেয়ের ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই চাই না। সত্যি বলতে, রাজনীতি সম্পর্কে তো কিছু বুঝিও না।' CPIM কিংবা অন্য কোনও দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছিল ভোটে দাঁড়ানোর? এ প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বক্তব্য, 'এখনও আমার কাছে এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। প্রস্তাব এলেও আমি রাজি হব কি না, জানি না। কারণ আমি কিংবা আমার পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। যদি কখনও এমন প্রস্তাব আসেও, তাহলে ভাবনাচিন্তা করে দেখব। সে মুহূর্তে আমার মন কেমন থাকবে, তার উপর নির্ভর করে ভেবে দেখব।'
তবে CPIM তাঁকে কালীগঞ্জ থেকে দাঁড় করাতে চায়, এই জল্পনা কানে এসেছে তামান্নার মায়েরও। তিনি বলেন, 'আমিও নানা জায়গা থেকে শুনেছি। গ্রামের অনেকেও বলাবলি করেছে, এবারের ভোটে আমি নাকি প্রার্থী। আমার আব্বা তো শুনেই কান্নাকাটি করতে শুরু করেছে। বলছে, আমার মেয়েটা মরে যাবে, ওকে মেরে ফেলে দেবে।'
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
শাসকদলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তামান্নার মা। তিনি বলেন, 'এখনকার যে সরকার আছে, তারা যেন ধ্বংস হয়ে যায়। তেমনটা হলে তামান্নার মায়ের থেকে বেশি শান্তি আর কেউ পাবে না। এই শাসকদলের গুরুত্ব তো কোনও দিনই ছিল না আমার কাছে, এখন তো দেখছি, আমার কোল খালি শুধু নয়, কোনও মেয়েই নিরাপদ নয় এই জমানায়। কোনও একটা কাজ ঠিক করছে না এই শাসকদল। আমাদের ট্যাক্স নিয়েই আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে। ওরা কারও বাবার ঘর থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিচ্ছে না। যে সরকার আসবে সে-ই দেবে এই টাকা।'
'রাজনীতির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই'
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'বিশ্বাস করন, তামান্নার আব্বু আর আমার কোনওদিন রাজনীতিতে ইন্টারেস্ট নেই। বারান্দা, উঠোন, রুম আর তামান্নার স্কুল, এই ছিল আমাদের দুনিয়া। কোনও দুশমন নেই। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আমরা। এখন দেওয়ালে পিট ঠেকে গিয়েছে তাই লড়াই করতে হচ্ছে।' ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল সাবিনার। কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকার শ্বশুরের ভিটেতে আসার বহু বছর পর প্রথম ভোট দেন তিনি। তবে শেষ কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিনি।
কেন CPIM-এর উপর আস্থা?
যে দল ক্ষমতায় নেই, তার উপর আস্থা কেন? তামান্নার মা বলেন, 'হ্যাঁ, জানি CPIM ক্ষমতায় নেই তা-ই হয়তো ন্যায়বিচার পেতেও দেরি হবে। তবে আমি তাদের সঙ্গে আছি কারণ আমার মনে হয় এই দল গরিব মানুষের জন্য লড়ে। মেয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে যা দেখলাম, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে CPIM খেটে-খাওয়া, অসহায় মানুষের জন্য ভাবে। ওরা নিশ্চয়ই চেষ্টা করবে, তামান্নার মা ন্যায়বিচার পাক। অন্য পার্টি হলে আমার মনে হয় বিচার এনে দিত না আমায়। আমি ঠিক ন্যায়বিচার পাব আমার মাসুম বাচ্চার জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে।'
উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। তারপরই শুরু হয় বিজয় উৎসব। সেই বিজয় উৎসবের মিছিল থেকে ছোড়া বোমাতে প্রাণ হারান ছোট তামান্না। বাড়ির উঠোনেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় শিশুর। এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরিবারের দাবি মোট ২৪ জন অভিযুক্তের অনেকেই এখনও অধরা।