আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বদলে বদলে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং আগামী দিনে কোন খাতে বইতে চলেছে তা, শিক্ষাবিদ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্র, কে কোন ভূমিকা পালন করবে শিক্ষার প্রসারে, দিনভর আলোচনা তা নিয়েই। আলোচনায় যেমন উঠে এল ট্র্যাডিশনাল লার্নিং সিস্টেম, উঠে এল মডার্ণ লার্নিং সিস্টেম, এআই, চ্যাটজিপিটি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার ঠিক কোথায় থামানো উচিৎ, সবকিছু। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটি অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং আয়োজিত সপ্তম গ্লোবালাইজড এডুকেশন ফোরাম, ২০২৬। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটি অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের চেয়ারম্যান, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী, সঞ্জীব সান্যাল, মদন মোহন মোহঙ্কা, ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজয় চ্যাটার্জি, জুলিয়া মার্টিন,অনুপম বাসু-সহ বিশিষ্ট জনেরা।
সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে মনোগ্রাহী করে তোলার জন্য, কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর রোডম্যাপ: উদ্ভাবনী শিক্ষাদান এবং পাঠ্যক্রম নকশা, ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত-এর জন্য উচ্চশিক্ষার পুনর্কল্পনা: বিশ্বব্যাপী জ্ঞান যুগের জন্য শাসন, পাঠ্যক্রম এবং প্রতিভার রূপান্তর, ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর রোডম্যাপ: অনুবাদমূলক গবেষণা এবং শিল্প একাডেমিয়া সম্পৃক্ততা। প্রতিটি ভাগে, শিক্ষাবিদ, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, বিশিষ্টজনেরা একেবারে পয়েন্ট ধরে তুলে ধরেন সামগ্রিক রূপরেখা।
সুকান্ত মজুমদার এদিন যেমন দেশের শিক্ষাখাতের জন্য কেন্দ্রের গৃহীত পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তেমনই তাঁর বক্তব্যে উঠে এল বাংলার কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে অমর্ত্য সেন, শিক্ষা-সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে বাংলা যে বহুযুগ থেকেই পথ দেখিয়েছে, যেন এক বাক্যে তাই বললেন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তুলে ধরলেন বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের কৌশলগত রোডম্যাপের রূপরেখা। কাঠামোগত সংস্কারের উপর জোর দিয়ে তিনি জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'ভারতীয় উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের বিষয়ে যে কোনও গুরুতর আলোচনা জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ দিয়ে শুরু হওয়া উচিত।' এটিকে 'তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্কল্পনা" হিসাবেও বর্ণনা করেন। বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫-এর কথাও উল্লেখ করেন এদিনের বক্তব্যে। পাঠ্যক্রম রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, 'শাসন সংস্কার কাঠামো প্রদান করে, কিন্তু রূপান্তর অবশ্যই ঘটতে হবে শ্রেণিকক্ষে।' সঙ্গেই বলেন, 'পুরনো পাঠ্যক্রম এবং কঠোর শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আগামিকালের জন্য প্রস্তুত করতে পারি না।' তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লার্নিং ইকোসিস্টেম, গবেষণা ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগগুলিও তুলে ধরেন।
ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটি অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের চেয়ারম্যান, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, বিশিষ্টজনেদের উপস্থিতিতে এই আলোচনার মুহূর্ত আসলে ভারতের 'নলেজ ড্রিভেন নেশন' হওয়ার যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শিক্ষাবিদ সত্যম রায়চৌধুরীর মতে, উচ্চশিক্ষা কেবল জ্ঞান হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; বরং তা হতে হবে মানবিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের এক সমন্বিত ক্ষেত্র। সমালোচনামূলক চিন্তাবিদ, নীতিবান নেতা, উদ্ভাবক এবং দায়িত্বশীল বিশ্ব নাগরিকদের এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যেভাবে কেন্দ্রের নকশাগুলির হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং আন্তঃবিষয়ক পদ্ধতি এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার বিকাশের জন্য একাডেমিক ব্যবস্থাগুলির পুনরায় ব্যবহার করছে, উঠে আসে সেই প্রসঙ্গও। একে একে তুলে ধরেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন ভারতের কর্মসংস্থানের হার, চাকরির প্রস্তুতিতে ছেলদের থেকে মেয়েদের এগিয়ে থাকা, এআই নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ বৃদ্ধি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজকের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি নির্ধারণ করবে যে উচ্চশিক্ষা কীভাবে ভারতের জ্ঞান-চালিত, উদ্ভাবন-নেতৃত্বাধীন এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত জাতিতে রূপান্তরকে চালিত করবে। প্রশাসন সংস্কার, পাঠ্যক্রম পুনর্নবীকরণ এবং সহযোগিতামূলক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য (EAC-PM) সঞ্জীব সান্যাল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থান উচ্চশিক্ষাকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর মত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বিশ্বে, শিক্ষার্থীরা যেকোনও জায়গা থেকে বিশ্বমানের বক্তৃতা শুনতে পারেন, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন এবং নিজের মতো করে শিখতে পারেন। এখন সেই সুযোগ হাতের মুঠোয়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য 'বড় সুযোগ' হিসেবেই চিহ্নিত করছেন তিনি।