এক সময়ে লোকসভার সাংসদ ছিলেন। কেন্দ্রের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। এখন তিনি রাজ্যের মন্ত্রী এবং বালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিধায়ক। সেই বাবুল সুপ্রিয়কে (Babool Supriyo) ফের সাংসদ করে পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
শুক্রবারই রাজ্যসভা (Rajya Sabha) নির্বাচনে দলের চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। যাঁদের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তাঁদেরই অন্যতম বাবুল সুপ্রিয়। তাতেই আপ্লুত তিনি। তাঁর উপর বিশ্বাস এবং ভরসা রাখার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banejree) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রতি ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই তাঁর কাছে।
২০১৪ সালে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী বাবুল। সেই বছরেই আসানসোল কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নগর উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। পরে কেন্দ্রের ভারী শিল্প মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০১৯ সালে ওই আসন থেকেই বিজেপির টিকিটে ফের জিতে কেন্দ্রীয় বন এবং পরিবেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ (Tollyganj) কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হেরে যান বাবুল। সেই বছরেই দলের সঙ্গে মতবিরোধে জেরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেন তিনি। ২০২২ সালে, বালিগঞ্জ কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হন বাবুল।
চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Elections)। এই নির্বাচনের দিন নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত বলেও ‘এই সময় অনলাইন’-কে জানিয়েছেন তিনি।
সেই সঙ্গেই বিজেপির প্রতি তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘ভালোবসে, মন দিয়ে কাজ করার পরেও আমার মন ভেঙে গিয়েছিল।’ সেই ক্ষোভ থেকে রাজনীতি ছেড়ে পুরোপুরি সঙ্গীতে মন দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী যে ভাবে তাঁকে গান গাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন তাতে তাঁর কাজ অনেক ভালো হয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যসভায় তাঁকে পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেকের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। বাবুল বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। সেই সঙ্গেই আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে তৈরি।’
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভার ভোটগ্রহণ হবে। আর, ভোটে অঙ্কের নিরিখে চারটি আসনেই জেতা নিশ্চিত তৃণমূল কংগ্রসের।