• দেশের প্রথম সমকামী সাংসদ, ইতিহাসের মুখে মেনকা! রাজ্যসভায় তৃণমূলের বড় চমক
    এই সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে তৈরি হতে চলেছে এক নতুন ইতিহাস। এদিন আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে অন্যতম চর্চিত নাম মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টের এই প্রথিতযশা আইনজীবী শুধু আইনি মহলেই নয়, এলজিবিটিকিউ প্লাস (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক পরিচিত মুখ। তিনি নিজেও সমকামী। আর আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম সমকামী সাংসদ।

    মেনকা গুরুস্বামীর দীর্ঘদিনের পার্টনার অরুন্ধতী কাটজুও একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা প্রথম প্রকাশ্যে নিজেদের গে কাপল হিসেবে স্বীকার করেছিলেন।

    তার আগে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা বাতিলের ঐতিহাসিক মামলায় তাঁরা একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং জয়ীও হয়েছিলেন। তাঁদের এই লড়াই ভারতে সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করেছিল।

    এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) অধিকারের ক্ষেত্রে এই আইনি জয়কে যুগান্তকারী বলে মনে করা হয়। CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন এই জয়টা তাঁদের জন্য ব্যক্তিগতও ছিল।

    সম্প্রতি তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারক সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দলের হয়ে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল মেনকাকে। ইডি-র তল্লাশির পরে দলের গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

    সেই মামলা লড়েছিলেন তিনি। হিয়ারিংয়ের সময়ে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মমতা’ বলে সম্বোধন করায়, মেনকা তাঁকে ‘ডেকোরাম মেনটেন’ করতে বলেছিলেন। যা বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।

    মেনকার বাবা, মোহন গুরুস্বামী BJP-র প্রাক্তন স্ট্র্যাটেজিস্ট। তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহার বিশেষ উপদেষ্টা পদে ছিলেন। তবে পারিবারিক এই রাজনৈতিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও মেনকাকে বরাবরই স্বাধীন ভাবে প্রগতিশীল মতাদর্শ নিয়ে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০২১ সালে যশবন্ত সিনহাও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।

    মেনকা গুরুস্বামী ‘ন্যাশনাল ল স্কুল’, ‘হার্ভার্ড’ এবং ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর পেশাদারি জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:

    আইনি দক্ষতা এবং LGBTQ+ তথা মানবাধিকার রক্ষার লড়াই মেনকাকে তৃণমূল কংগ্রেসের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রার্থী করে তুলেছে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তাঁর দেশে নারী-পুরুষ ব্যতীত আর কোনও লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেবেন না বলে ঘোষণা করছেন, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একজন ঘোষিত সমকামী আইনজীবীকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী করল। এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রগতিশীল’ বলে দাবি করা ভারতের আর কোনও দল কিন্তু এখনও এই পদক্ষেপ করতে পারেনি। মেনকা নির্বাচিত হলে (হবেনই) রাজ্যসভায় তথা সংসদে LGBTQ+ সম্প্রদায় অন্তত একটি কণ্ঠ পাবে। আর মেনকার দেখানো পথে হয়তো আগামী দিনে আরও LGBTQ+ সাংসদ পাবে ভারত।

  • Link to this news (এই সময়)