এই সময়: অন্য রাজ্যে হলেও, বাংলায় জোট করার জন্য সাম্প্রতিক অতীতে কোনও সমমনোভাবাপন্ন দল পায়নি বিজেপি। তবে একক ক্ষমতাতেই বাংলা দখলের ক্ষমতা তাদের রয়েছে, সে কথা একাধিকবার বলেছেন দলের নেতৃত্ব। যদিও এ পর্যন্ত বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী বিধানসভা ভোটের জন্য স্টান্স বদলাল পদ্ম–শিবির। নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্যজুড়ে তারা যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আয়োজন করেছে, তাতে এ বার অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানালেন বঙ্গ বিজেপি–র নেতারা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, তাঁরা এই আহ্বান জানালেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদেরও।
আগামিকাল, রবিবার, ১ মার্চ থেকে এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হচ্ছে। শুক্রবার ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি হোটেলে এই কর্মসূচি নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
শমীক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সব রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের এই যাত্রায় সামিল করানো। কারণ এটা পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।’ বামপন্থী কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘মতাদর্শ আপনার হৃদয়ে রাখুন, পতাকা বাড়িতে রাখুন। আপাতত বাংলাকে বাঁচাতে আমাদের পরিবর্তন যাত্রায় সামিল হোন। শুধু বাম নয়, তৃণমূলের অন্দরে যাঁরা ক্ষমতার অমৃতরস পাননি, আমরা চাই, তাঁরাও এই যাত্রায় সামিল হোন।’ একই সুরে শুভেন্দু বলেন, ‘এই পরিবর্তন যাত্রা শুধু বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ব্যাপ্তি আরও বেশি।’ সুকান্তর মতে, ‘এই যাত্রা এক ঐতিহাসিক যাত্রা হতে চলেছে যা রাজ্যের অপশাসনের গ্লানি মুছে দেবে।’ কেন এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’? শমীকের কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বাংলাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রামের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতেই এই যাত্রা।’
কোচবিহারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, সেখানে উপস্থিত থাকবেন শমীক। মোট ৯টি জায়গাতেয় হবে এই কর্মসূচি — শিলিগুড়ি, মালদা, নবদ্বীপ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া -হুগলি, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বর্ধমান। বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য, মোট ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এক কোটিরও বেশি মানুষকে এই যাত্রায় সামিল করা। এর মধ্যে ৬৩টি বড় জনসভা এবং ২৮০টি জনসমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি জেলায় যাত্রার সূচনায় রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও উপস্থিত থাকবেন। নীতিন নবীন ছাড়াও অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্মৃতি ইরানি-সহ একাধিক নেতা বাংলায় আসছেন। ৩ ও ৪ মার্চ দোল ও হোলির জন্য যাত্রা স্থগিত থাকবে। আবার ৫ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।