বোলপুর থানার (Bolpur Police Station) অন্তর্গত মধ্যখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিত্যদিনের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। অভিযোগের কেন্দ্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকার। পড়ুয়াদের অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই তিনি মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে ঢোকেন। আর সেই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অভিভাবক থেকে এলাকাবাসী— স্কুল যেন পড়াশোনার জায়গা না হয়ে উঠেছে ‘হাস্যকর নাট্যমঞ্চ’।
শুক্রবার দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ ফের সেই ছবিই সামনে আসে। অভিযোগ, তখন মদ্যপ অবস্থায় স্কুল চত্বরে ঢোকেন প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের দাবি, তাঁর মুখ থেকে স্পষ্ট মদের গন্ধ বেরোচ্ছিল। স্কুলের দরজার তালা খুলতে গেলে অভিভাবকরা বাধা দেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও শিক্ষকের পাল্টা দাবি—তিনি মদ খান না। কিন্তু বাইট দেওয়ার সময় তাঁর কথাবার্তা জড়িয়ে যাওয়ায় সেই দাবি নিয়েই শুরু হয় হাসাহাসি। কখনও বলছেন তাঁর বাড়ি বোলপুরে (Bolpur), আবার কখনও বলছেন বিহারেতে—নিজের ঠিকানাই ঠিক রাখতে না পারায় স্কুল চত্বরে কৌতুকের রোল ওঠে।
এখানেই শেষ নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ, স্কুলের সময় সকাল ১০টা হলেও বহুদিন ধরেই পড়ুয়াদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শুক্রবারও সকাল ১০টা থেকে কচিকাঁচারা স্কুলের সামনেই অপেক্ষা করছিল। প্রধান শিক্ষক প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে স্কুলে ঢোকার পরেই পড়ুয়াদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ মেলে। অভিভাবকদের প্রশ্ন— ‘দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শিশুরা রোদে-ধুলোয় দাঁড়িয়ে থাকবে কেন? পড়াশোনার পরিবেশ কোথায়?’
জানা গিয়েছে, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছুটিতে। ফলে কার্যত একজনের হাতেই স্কুলের দায়িত্ব। সেই সুযোগেই নাকি অনিয়ম বাড়ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই স্কুল সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে বাড়ি পালান। শুধু তাই নয়, স্কুল চত্বরে মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখেছেন বলেও দাবি তাঁদের। এই ঘটনাকে ঘিরে অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের দাবি একটাই—মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসা প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে বদলি করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তাঁরা।
যদিও ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন,‘যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা একদমই বাঞ্ছনীয় নয়। বিদ্যালয় চত্বরে এরকম অবস্থা কোনওভাবেই মানব না। বিষয়টা নিয়ে আমি এসআই-কে বলেছি সোমবার গ্রামবাসী এবং ওখানকার সমস্ত শিক্ষকদেরকে নিয়ে হিয়ারিং ডাকতে। তারপরে সরকারিভাবে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আমরা করব ।’