এই সময়: দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে কেস ডায়েরি হাতে পেল এনআইএ। কলকাতা নগর–দায়রা আদালতের স্পেশাল এনআইএ কোর্টের বিচারকের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে শুক্রবার কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হয়। এনআইএ তদন্ত নিয়ে অবশ্য আগাগোড়াই রাজ্যের আপত্তি ছিল। এনআইএ তদন্ত ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, স্পেশাল এনআইএ কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কোনও কারণ নেই।
এ দিন শুনানি ছিল স্পেশাল এনআইএ কোর্টে। এ দিন রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করে এনআইএ–কে। এ দিন অভিযুক্ত ৩১ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে ৭ অভিযুক্তকে এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তাঁদের ৬ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বাকি ২৪ জনের ১৩ মার্চ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারি অশান্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। ভিন্রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়। আক্রান্ত হন এক মহিলা সাংবাদিক, পুলিশকর্মীরাও। পরের দিন সকাল থেকেও বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে মামলায় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এর পরেই এনআইএ–কে তদন্তভার দেয়। কিন্তু বেলডাঙা থানার কাছে কেস ডায়েরি চাওয়া হলেও এতদিন তা দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ।