রূপক মজুমদার, বর্ধমান
হাতে 'যুবসাথী' প্রকল্পের কড়কড়ে ১৫০০ টাকা চান! তা হলে মাধ্যমিক বা সমতুল কোনও পরীক্ষায় পাশ করার সার্টিফিকেট থাকতে হবে! আর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০–র মধ্যে।
বয়স নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু, অনেকেই তো মাধ্যমিক পাশ নন! তাঁরা কী করবেন? সমাধান করে দিয়েছেন বর্ধমানের তেলিপুকুর বাজারের 'শিক্ষক' শেখ মিরাজ। জানিয়েছেন, টাকা দিলেই মাধ্যমিক সমতুল এনআইওএস (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং)–এর সার্টিফিকেট মিলবে। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে।
ওই সার্টিফিকেট পাওয়ার সবচেয়ে দামি প্যাকেজ ২৫ হাজার টাকার। বিনিময়ে ছ'মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে সার্টিফিকেট। মিরাজ জানিয়েছেন, এই প্যাকেজে পড়াশোনা করতেই হবে না। প্রশ্ন উঠেছে, পড়াশোনা না করেই কী করে এক জন মাধ্যমিকের সমতুল সার্টিফিকেট পেতে পারেন? সেই সার্টিফিকেট তো শুধুমাত্র 'যুবসাথী' প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত নাও হতে পারে! তা দেখিয়ে উচ্চতর পাঠ্যক্রমেও তো কেউ ভর্তি হতে পারেন? পড়াশোনা না করে সার্টিফিকেট পাওয়া তো এক ধরণের প্রতারণাও!
মানতে রাজি নন মিরাজ। তিনি বলছেন, 'পড়াশোনা করেও সার্টিফিকেট পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাতে সাড়ে ছ'হাজার টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পেতে এক বছর লাগবে। সেখানে শুধু নোটস দেওয়া হবে। ঠিক মতো পড়াশোনা করতে হবে। আর সাড়ে ১২ হাজার ও ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হলে নোটস, সাজেশনের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়ে সহযোগিতা করা হবে।'
তবে এটা যে 'যুবসাথী' প্রকল্পের কথা ভেবেই করা হচ্ছে, সেটাও জানাতে ভোলেননি তিনি। তাই, রাজ্য সরকারের 'যুবসাথী' প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন মিরাজ। তাঁর যুক্তি, 'সরকারি নির্দেশ, মাধ্যমিক পাশ না–করলে যুবসাথীর অনুদান পাওয়া যাবে না। তাই এই বিজ্ঞাপন। যাতে ছেলেমেয়েরা মাধ্যমিকের সমতুল পরীক্ষায় পাশ করে এই প্রকল্পের সুবিধে নিতে পারেন।'
পূর্ব বর্ধমান জেলার শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রতীক সিং বিজ্ঞাপনটি দেখে বলেছেন, 'এ ভাবে সরকারি প্রকল্পের কথা কোনও বেসরকারি সংস্থার বিজ্ঞাপনে দেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি বর্ধমান উত্তরের মহকুমাশাসককে বলছি।' ওই বিজ্ঞাপনে রাজ্য সরকারের লোগোর পাশে লেখা রয়েছে 'যুবসাথী' শব্দটি। তার নীচে লেখা '১৫০০ টাকা প্রতি মাসে'। আর একদম নীচে দেওয়া হয়েছে ওই মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রের নাম, ঠিকানা ও শিক্ষকের ফোন নম্বর।
এই বিজ্ঞাপন দেখেই বর্ধমান শহরের তেলিপুকুর বাজার এলাকার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন এক যুবক। তাঁর বক্তব্য, 'আমি ২২ হাজার টাকা দিয়েছি (মনে করা হচ্ছে ২৫ হাজার টাকার প্যাকেজ দরদাম করে ২২ হাজারে নামিয়েছেন তিনি)। ছ'মাস পরে আমাকে মাধ্যমিকের মতো সার্টিফিকেট দেবে এনআইওএস থেকে। ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে আমি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও দিতে পারব। আর এখন যুবসাথীর টাকাও পেয়ে যাব।'