এই সময়, শিলিগুড়ি: ভূমিকম্প যেন জলভাত হয়ে যাচ্ছে সিকিমে। তার রেশ এসে পড়ছে বাংলার উত্তরাংশে। পূর্বানুমানের সুযোগ না-দিয়েই যখন-তখন কম্পন অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দফায় দফায় ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ ফের ভূমিকম্প হয়। উৎসস্থল পশ্চিম সিকিমের নামচি। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৭। তার পরেই দুপুর একটা নাগাদ মৃদু মাত্রায় কম্পন অনুভূত হয়। এই কম্পনের উৎসস্থল উত্তর সিকিমের মঙ্গন। এ দিনও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রিখটার স্কেলে ৪ বা তার চেয়ে কম মাত্রার ভূমিকম্প হলে তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অন্য একটি অংশের মত, মৃদু মাত্রার একাধিক কম্পন আসলে বড় মাপের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। এমন আশঙ্কার কারণ, গত কয়েক বছর ধরে সিকিমে মৃদু কম্পন বেড়েছে। গত বছর সিকিমে ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোট ১৭৮টি ভূমিকম্প হয়েছে।
বিষয়টি সিকিম সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পদক্ষেপেই তা স্পষ্ট। এ দিন ওই দপ্তর সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছে, চলতি মাসে সিকিম, নেপাল, ভুটান এবং তিব্বত মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫৭ বার ভূমিকম্প হয়। তার মধ্যে শুধু সিকিমেই ভূমিকম্প হয়েছে ৪১ বার। ওই দপ্তর এ দিন ঘোষণা করেছে, তারা সিকিমের প্রতিটি গ্রামে কর্মী পাঠাবে। বড় মাপের ভূমিকম্প হলে কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, সঙ্গে কী কী রাখতে হবে, সেই ব্যাপারে গ্রামের বাসিন্দাদের সচেতন করবেন দপ্তরের কর্মীরা। সিকিমের ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ডিরেক্টর প্রবোধ রাই বলেন, 'ভূমিকম্প হলেই বাড়ি থেকে পালানোর দরকার নেই। বরং বাড়িতেই আগে থেকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে রাখুন।'
ভারতে কোন কোন এলাকায় ভূমিকম্পের প্রবণতা কেমন, তা পরিমাপ করে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড বিভিন্ন এলাকাকে জোনে ভাগ করে। জোন টেন হলো সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। জ়োন ওয়ান কম ভূমিকম্পপ্রবণ। সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পং আগে ছিল জোন ফোর-এ। গত বছর ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড এই তিন এলাকাকে জোন সিক্স-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পার্বত্য অংশে। দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, টর্চ, মোমবাতি, টাকাপয়সা, জরুরি ওষুধপত্র হাতের কাছে রাখতে। দার্জিলিং জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এ ব্যাপারে যে কোনও রকমের পরামর্শের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে- ০৩৫৩-২২৫৭৪৫৯।
এ দিন ভূমিকম্পের পরে পাহাড়ে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, শনিবার ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে।