• ফেটে গেল রাস্তা, ভয়ে হুড়োহুড়ি, ভূমিকম্পের দুপুরে আতঙ্ক কলকাতায়
    এই সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: লাঞ্চ আওয়ার তখন সবে শুরু হয়েছে। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ক্যাফেটেরিয়ায় ভিড় একটু একটু করে জমছে। টেবিলে বসে বোতল থেকে মুখে জল ঢালতে গিয়েই গোলটা বাধল। জল ছলকে ভিজল পোশাক। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অঙ্কন বিশ্বাস ভেবেছিলেন কেউ মজা করে পিছন থেকে ঠেলা মেরেছে। আকস্মিকতা কাটতে না কাটতেই বুঝতে পারেন, কাঁপছে পুরো বিল্ডিং। খাবার-টিফিন ক্যারিয়ার সেখানে রেখেই অন্যদের সঙ্গে সিড়ি বেয়ে নীচে নামেন তিনি। অফিসের সামনে তখন আতঙ্কিত মুখের সারি। কেউ কেউ ল্যাপটপ নিয়েই নেমেছেন রাস্তায়।

    শুধু সল্টলেকই বা কেন, রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্ন থেকে কলকাতা পুরসভা, সমস্ত অফিস কাছারি, বিভিন্ন আবাসন— সর্বত্র একই ছবি। আতঙ্ক যে নিছক অমূলক নয়, এ দিনের ভূমিকম্প তার প্রমাণ রেখে গিয়েছে মহানগরের বিভিন্ন জায়গায়। বেহালা থেকে লেকটাউন, রাস্তায় ফাটল ধরেছে। কম্পনের উৎসস্থল বাংলাদেশ হলেও স্মরণাতীত কালে কলকাতায় তার অভিঘাত এতটা তীব্র হয়নি। স্কুল থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গিয়ে কয়েকজন পড়ুয়ার জখম হওয়ার খবরও এসেছে এ দিন। প্রায় ১১ সেকেন্ড ধরে জোর কম্পন শহরের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

    দুপুর ১টা ২২ মিনিটে শহর জুড়ে যখন কম্পন অনুভূত হলো, তখন কেউ খেতে বসেছেন, আর পড়ুয়ারা স্কুল-কলেজে। ধর্মতলার এসএন ব্যানার্জি রোডে কলকাতা পুরসভার সদর কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধিকাংশ কর্মী নীচে নেমে আসেন। আচমকা পাখা দুলতে থাকা, চেয়ার–টেবিল, আলমারির ঝনঝনানির শব্দ তাঁদের আতঙ্কিত করে তোলে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, মধ্য কলকাতার মেটক্যাফ স্ট্রিটে একটি বাড়ি হেলে পড়ার খবর পৌঁছয় বিল্ডিং বিভাগে। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফ থেকে জানানো হয়, বাড়িটি আগে থেকেই হেলে ছিল। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছোয় দমকলের একটি ইঞ্জিন।

    এদিকে, বাড়ি হেলে পড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই পুরসভার সড়ক বিভাগে এসে পৌঁছয় বেহালার পর্ণশ্রীতে রাস্তায় ফাটল ধরার খবর। ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, আগে ওই রাস্তাটি কাঁচা ছিল। বৃহস্পতিবার রাতেই পিচ ঢালা হয়। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সঞ্চিতা মিত্র বলেন, ‘ রাস্তায় ফাটল ধরার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দেখলাম প্রায় ২০ ফুট মতো ফাটল। সঙ্গে সঙ্গে ওই অংশের সংস্কার করা হয়।’ লেকটাউনের একটি রাস্তাতেও এদিন ফাটল দেখা দেয়।

    সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত সৌমিতা দাস বলেন, ‘অফিসে একটা কনফারেন্স কল চলছিল। তখন হঠাৎই ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পারি। ওই অবস্থায় ল্যাপটপ হাতে নিয়েই নীচে নেমে আসতে হয়েছে।’ একই অভিজ্ঞতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সাগর বিশ্বাসের। জানান, ক্লাসের মাঝে আচমকা পাখা-বাতি দুলতে শুরু করায় আতঙ্কিত হয়ে আমরা তড়িঘড়ি নীচে নামি। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ব্লক উন্নয়ন অফিসে সার-এর নথি যাচাইয়ের কাজ করছিলেন বিচারকেরা। এরই মধ্যে ভূমিকম্প আতঙ্ক ছড়ায় সেখানেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙরের কচুয়া হাইস্কুলে আতঙ্কে তড়িঘড়ি স্কুলের ক্লাসরুম থেকে বেরোতে গিয়ে জখম হয় বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)