এই সময়: পূর্ব ঘোষণা মতোই আজ, শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) পরে বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ দুপুর নাগাদ তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। অফলাইন ও অনলাইন দুই পদ্ধতিতেই তালিকা দেখা যাবে। খসড়া তালিকায় থাকা প্রায় ৭ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের সঙ্গে যাঁরা ফর্ম–৬ ফিলআপ করে নতুন নাম তুলেছেন, তাঁদের নামও তালিকায় থাকবে।
তবে উপযুক্ত নথি দিতে না–পারায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, লিস্টে তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা থাকবে। ফর্ম–৭ ফিলআপ করে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার পাশেও ‘ডিলিটেড’ লেখা থাকবে। খসড়া তালিকাভুক্ত মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ জনকে ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আবার প্রায় ৬০ লক্ষ ‘ডিসপিউটেড’ বা বিতর্কিত ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরে। আজকের চূড়ান্ত লিস্টে এঁদের নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুিকেশন’ বা বিচারাধীন লেখা থাকবে। বাকি প্রায় ৯০ লক্ষ, যাঁদের শুনানির পরে নথি যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাঁরা উপযুক্ত নথি দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম তালিকায় থাকবে। বাকিদের বাদ যাবে এবং তাঁদের নামের পাশে লেখা থাকবে ‘ডিলিটেড’।
চিন্তায় মতুয়ারা
ফলে কাদের নাম থাকবে এবং কারা বাদ যাবেন— তা নিয়ে চিন্তায় ভোটারদের একটা বড় অংশ। এ নিয়ে অশান্তি ও আইন–শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান–সহ অনেকগুলি মতুয়া অধ্যুষিত জেলাগুলির বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা আরও বেশি। বেনাগরিক হওয়ার আশঙ্কা থেকে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বনগাঁর মতুয়া গড়ে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে শুক্রবার ঠাকুরবাড়িতে এসে মমতাবালা ঠাকুরের কাছে কান্নাকাটিও করেছেন অনেকে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর মতুয়া গড়ে ২ লক্ষের বেশি মানুষ শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন। এর মধ্যে মতুয়াদের সংখ্যা ১ লক্ষ ২০ হাজার। অথচ শুনানিতে অংশ নিয়েছেন ৬০ হাজারের কিছু বেশি মানুষ। ফলে শুধু বনগাঁর চারটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ৮৫ শতাংশ মতুয়াদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নজরে আইন–শৃঙ্খলা
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি আঁচ করে নিয়ে অশান্তির আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি করে স্যাপ, র্যাফ–সহ বিভিন্ন ইউনিট এবং ব্যাটেলিয়নের আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইন–শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সামনে দোল, হোলির মতো উৎসবের পাশাপাশি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত জরুরি আইন–শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাহিনীকে তৈরি থাকতে হবে। নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুমও খোলা হচ্ছে।
তালিকা বিএলও–পার্টিকেও
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও সিইও ওয়েবসাইটে ভোটার নিজের নাম ও এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। পাশাপাশি রাজ্যের সব বুথ লেভেল অফিসারকে তালিকার হার্ড কপি দেওয়া হবে। ভোটাররা নিজেদের এলাকার বিএলও-র কাছে গিয়ে তালিকায় নাম যাচাই করতে পারবেন। এ ছাড়া রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পেন ড্রাইভে তালিকা দেওয়া হবে। জেলাশাসক, এসডিও ও বিডিও অফিসেও তালিকা টাঙানো হবে। তবে তালিকা আগে অনলাইনেই প্রকাশিত হবে।
আবার নাম উঠবে?
যাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা থাকবে, তাঁরা কি এ বার ভোট দিতে পারবেন? কমিশন সূত্রের খবর, ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা যদি শুনানিতে অংশ নিয়ে উপযুক্ত নথি দিয়ে থাকেন, তা হলে আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। সেখানে ৫ দিনেও আবেদন পড়ে থাকলে বা খারিজ হলে তিনি সিইও–র কাছে আর্জি জানাতে পারেন পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে। তবে সেখানেও আবেদন খারিজ হয়ে গেলে এ বার আর তিনি ভোট দিতে পারবেন না। তবে আগামী দিনে ফের তাঁরা ফর্ম–৬ ফিলআপ করে উপযুক্ত নথি দিয়ে নাম তোলার আবেদন জানাতে পারেন। ‘ডিসপিউটেড’ ভোটারদের ক্ষেত্রে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা।
নজরে লিস্ট
অনলাইনে— eci.gov.in এবং ceowestbengal.wb.gov.in — এই দু’টি ওয়েবসাইট এবং ECI NET অ্যাপে নাম এবং এপিক নম্বর দিয়ে দেখা যাবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ডিইও–দের সাইটেও সার্চ করা যাবে
অফলাইনে— সংশ্লিষ্ট বিএলও, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও এফিসে হার্ড কপি থাকবে। ৮টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে পেন ড্রাইভে তালিকা দেওয়া হবে