• গ্লোবমাস্টারে চড়ে শনিবার দেশে আসছে বৎসোয়ানার ৮ চিতা
    এই সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শিলাদিত্য সাহা

    পাক্কা সাড়ে তিন মাসের অপেক্ষা শেষ। আজ, শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফায় বিদেশ থেকে ভারতের জঙ্গলে উড়িয়ে আনা হচ্ছে আফ্রিকান চিতা। এ বার বৎসোয়ানা থেকে। গত ১৩ নভেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বৎসোয়ানা সফরকালে তাঁর উপস্থিতিতেই ৮টি চিতাকে (৬টি মাদি, ২টি পুরুষ) বেছে নিয়ে ‘কোয়ারান্টিন’ করা হয়েছিল সে দেশের মোকোলোডি নেচার রিজ়ার্ভের জঙ্গলে। এর মধ্যে তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়েছে, গলায় পরানো হয়েছে রেডিয়ো কলার।

    শনিবার সেই চিতাদের হাল্কা ‘সেডেটিভ’ বা ঘুমের ওষুধ দিয়ে বিশেষ খোপকাটা বাক্সে ভরে বৎসোয়ানা থেকে চাপানো হবে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ কার্গো এয়ারক্রাফ্টে (সি ১৭ গ্লোবমাস্টার)। স্যর সেরেৎসে খামা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৯–১০ ঘণ্টা সফরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে সেই কার্গো নামবে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র এয়ার বেসে। সেখান থেকে চিতাদের বাক্সবন্দি অবস্থাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর এমআই ১৭ হেলিকপ্টারে চাপিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে কুনো জাতীয় উদ্যানে।

    এর আগে ২০২২–এর সেপ্টেম্বর আর ২০২৩–এর ফেব্রুয়ারিতে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা উড়িয়ে আনা হয়েছিল ভারতে, এই কুনোর জঙ্গলেই। এ বার তিন বছর পরে ফের অতিথি আসছে ‘চিতা রিইন্ট্রোডাকশন’ প্রকল্পে। আর তারা কুনোর মাটিতে পা রাখতে চলেছে এমন সময়ে, যখন ভারতে আফ্রিকান চিতাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্রমবর্ধমান। কুনো ও গান্ধীসাগর— মধ্যপ্রদেশের দুই অভয়ারণ্য মিলিয়ে আপাতত ভারতের মুক্ত জঙ্গলে চিতার সংখ্যা ৩৯, যার মধ্যে ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া চিতাই ২৮টি!

    নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বৎসোয়ানাও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ। আফ্রিকার আবহাওয়ার প্যাটার্ন অনুযায়ী সেখানে প্রথমে আসে গ্রীষ্ম, তার পরে শীত, এবং তা পার করে বর্ষা। ভারতের মতো উত্তর ও পূর্ব গোলার্ধে থাকা দেশের থেকে তা অনেকটাই আলাদা। এ দেশে গ্রীষ্মের পরে বর্ষা, তার পরে শীত। চিতা প্রকল্পের প্রথম দু’বছরে এই আবহাওয়াগত পার্থক্যের জন্য একাধিক আফ্রিকান চিতার শরীরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছিল। কারণ গ্রীষ্মের পরেই আফ্রিকান চিতাদের শরীরে ‘উইন্টার কোট’ তৈরি হয়, যা ভারতের আর্দ্র বর্ষাকালের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।

    যদিও ২০২৩–এর শেষ থেকে ২০২৬ — গত আড়াই বছরে ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া ২৭টি চিতাশাবক প্রকল্পের প্রাথমিক সাফল্যের কথাই বলছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা দেখছেন, কী ভাবে আফ্রিকা থেকে আসা চিতারা এ দেশের জলহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে নিজেদের। বৎসোয়ানার এই ৮ চিতার জন্যও প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ তাই ভারতের আবহাওয়া। কুনো সূত্রে জানা যাচ্ছে, জঙ্গলে চিতারা যাতে নিরাপদে পৌঁছতে পারে, তার জন্য ৫টি হেলিপ্যাড তৈরি রাখা হয়েছে। এমআই ১৭ কপ্টারের ট্রায়াল রানও শেষ। বৎসোয়ানার ৮ চিতা কুনো পৌঁছনোর পরে ৩০ দিনের জন্য তাদের রাখা হবে কোয়ারান্টিন এনক্লোজ়ারে। তার পরে ক্রমশ বড় এনক্লোজ়ারে পাঠিয়ে তাদের ভারতের জঙ্গলে অভ্যস্ত করা হবে।

    সব মিলিয়ে আজ সকাল থেকে ভারতের জঙ্গল দাপাবে ৪৭টি আফ্রিকান চিতা। ম্যাজিক ফিগার ৫০ বেশি দূরে নয়!

  • Link to this news (এই সময়)