• দিয়েছিলেন স্বাধীনতার দীক্ষা, জন্মবার্ষিকীতে 'ঋষি' নিবারণচন্দ্রকে স্মরণ পুরুলিয়ার
    এই সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: অবিভক্ত মানভূমের কাছে তিনি পরিচিত 'ঋষি' নামে। নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্তকে আজ, শনিবার শ্রদ্ধা জানাবে পুরুলিয়া। চুয়াড় বিদ্রোহের পরে মানভূমবাসীকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষা দিয়েছিলেন।

    ১৮৭৬-এর ২৫ এপ্রিল জন্ম ঢাকা জেলার গাউপাড়া গ্রামে। ১৯১২-তে বিদ্যালয় পরিদর্শকের চাকরি নিয়ে মেদিনীপুর থেকে আসেন মানভূমে। ১৯১৪-তে চাকরি ছেড়ে পুরুলিয়া জেলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে। পরে হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। ১৯১৫-তে স্ত্রী লাবণ্যময়ী দেবীর মৃত্যুর পরে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বাধীনতা যুদ্ধে। ১৯২০-তে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে সাড়া দিয়ে ১৯২২ সালে পুরুলিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সাম্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটের পদ ছেড়ে হাজির হন বন্ধু উপেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তর বাড়িতে। হয়ে ওঠেন 'মানভূমের গান্ধী।'

    জেলার ইতিহাস গবেষক তথা ঋষি নিবারণচন্দ্র জন্ম সার্ধশতবর্ষ উদযাপন কমিটির সম্পাদক প্রদীপ কুমার মণ্ডল জানাচ্ছেন, নিবারণচন্দ্রের প্রেরণায় মানভূমের দরিদ্র চাষি, আদিবাসী, নানা স্তরের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৫-এ তাঁর উদ্যোগে প্রকাশিত হয় মুক্তি পত্রিকা। সেই পত্রিকায় 'বিপ্লব' শিরোনামে তাঁর লেখা একটি সম্পাদকীয়র জন্য রাজদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। প্রদীপ বলছেন, 'ব্রিটিশ সরকার রাজদ্রোহের অভিযোগ আনে। সম্পাদক নিবারণচন্দ্র ও প্রকাশক সুরেন নিয়োগীর বিরুদ্ধে পুরুলিয়া আদালতে বিচার হয়েছিল। নিবারণচন্দ্র আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনও উকিল দেননি। বারণচন্দ্রের এক বছর ও সুরেনের তিন মাস কারাদণ্ড হয়।'

    লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নিয়ে হাজারিবাগ জেলযাত্রা। হয়েছিল যক্ষ্মা। ১৯৩৪-এ চিকিৎসার জন্য আনা হয় রাঁচিতে। সেই বছরেই গান্ধী রাঁচিতে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পুরুলিয়া শিল্পাশ্রমে ১৯৩৫-এর ১৭ জুলাই) নিভে যায় নিবারণচন্দ্রের জীবনদীপ।

    প্রদীপের মন্তব্য, 'মানভূমের নতুন প্রজন্ম যাতে এই ত্যাগী মানুষ সম্পর্কে জানতে পারে, তাই জেলা জুড়ে নানা অনুষ্ঠানে জন্ম সার্ধশতবর্ষ পালন করছি।'

  • Link to this news (এই সময়)