আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবক এবং তাঁর প্রেমিকাকে মারধর করার অভিযোগ উঠল একদল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার দেওয়ানসরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের সীতেশনগর গ্রামে।
ঘটনার খবর পেয়েই লালগোলা থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে মারমুখী জনতার হাত থেকে দু’জনকে উদ্ধার করলেও উত্তেজিত জনতা একটি গাড়ি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গুজবের জেরে একাধিক গণপ্রহারের ঘটনা ঘটেছে। কেশিয়াড়ি এলাকার খাজরা পঞ্চায়েতের গিলাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌম্যদীপ নামে এক ইঞ্জিনিয়ারকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চোর সন্দেহে আটকে ব্যাপক মারধর করা হয়। টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২০ তারিখ মৃত্যু হয় ওই ইঞ্জিনিয়ার যুবকের। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই গত ২৪ তারিখ খড়গপুরে পাঁচপাড়া গ্রামে চোর সন্দেহে এক যুবককে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। আর এবার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে বার হয়ে জনতার রোষের শিকার হলেন দু’জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে শুক্রবার সন্ধে নাগাদ রামনগর এলাকার এক যুবক তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে একটি স্করপিও গাড়ি করে লালগোলার দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি যখন সীতেশনগর পশ্চিমপাড়ার কাছাকাছি ছিল সেই সময় কেউ বা কারা রটিয়ে দেয় তিনজন শিশুকে ওই কালো রংয়ের স্করপিও গাড়িতে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন গ্রামবাসী গাড়িটিকে তাড়া করলে চালক ভয় পেয়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। পশ্চিমপাড়া ছেড়ে গাড়িটি যখন সীতেশনগর মোড়ের কাছাকাছি আসে সেই সময় উত্তেজিত জনতা গাড়িটিকে কোনওভাবে থামিয়ে দেয়।
এরপর গাড়ির মধ্যে থাকা ড্রাইভার এবং এক যুবক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা এক মহিলাকে ঘিরে ধাক্কাধাক্কি এবং মারধর শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সময় গাড়ির চালক কোনওভাবে পালিয়ে যেতে পারলেও ওই যুবক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ওই মহিলা এলাকা ছেড়ে যেতে পারেননি। তাঁদেরকে ধাক্কা মেরে কাছেই একটি বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর উন্মত্ত জনতা ওই স্করপিও গাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন এবং তার কিছুক্ষণ পর গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও পরবর্তীকালে জানা যায় ওই গাড়ির মধ্যে কোনও বাচ্চা ছিল না এবং গাড়িতে থাকা ওই যুবক এবং তাঁর প্রেমিকা কোনও বাচ্চা চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটিতে যে যুবক ছিলেন তিনি যথেষ্ট অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে। তাঁর বাড়ি রামনগর গ্রামে। ওই যুবকের সঙ্গে যে মহিলার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে ঘুরছিলেন। সেই সময় কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদেরকে ছেলেধরা বলে দাগিয়ে দেয়।
এই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, গাড়িটিতে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর কিছুক্ষণ আগে গাড়িতে থাকা এক যুবক স্থানীয় এক শিশুর হাতে টাকা দিয়ে তাকে একটি ঠান্ডা পানীয় এনে দিতে বলেছিল। এই ঘটনাটি দেখতে পেয়ে অনেকের সন্দেহ হয় টাকা দিয়ে ওই শিশুটিকে অপহরণ করার চেষ্টা করছে গাড়িতে থাকা দুই যুবক। তখনই কেউ বা কারা রটিয়ে দেয় কালো স্করপিও গাড়ি করে কয়েকজন যুবক এলাকার শিশু চুরি করছে। তারপরই উত্তেজিত জনতা গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে । গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে লালগোলা থানার পুলিশ।