নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে সাংঘাতিক অভাবের ছাপ না থাকলেও জীবনে কোটি টাকা দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি। তেমন এক পরিবারের সদস্যের অ্যাকাউন্ট কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ। বিষয়টি নজরে আসতে ভুক্তভোগী নিজেই গেলেন থানায়। এমনই ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ঠানেতে (Thane district)।
জানা গিয়েছে, নিধি তিওয়ারি নামে এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী অভিযোগ করেছেন যে তাঁর নামে অজান্তে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ২.৬ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে লেনদেনও করা হয়েছে। এই বিষয়ে নিধি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এক পরিচিতের দিকেই। একইসঙ্গে তাঁর সন্দেহ এই বেআইনি লেনদেনের নেপথ্যে রয়েছে উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) কোনও গোষ্ঠী।
মহারাষ্ট্রের কল্যাণের একটি নামী কলেজের এমএসসি ছাত্রী নিধি। তাঁর বাবা পেশায় অটোচালক। থানায় অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, বেসরকারি ব্যাঙ্কে কর্মরত তাঁর এক বন্ধু তাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকী এই প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে সামান্য কিছু টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পাসবই চেক করতে গিয়ে নিধি জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই লেনদেনের জন্য তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন চেক করি, তখন দেখতে পাই যে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে আমার নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি অ্যাকাউন্টেই লেনদেনের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে মোট লেনদেনের পরিমাণ ২.৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।’
এর পরেই অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করা সেই বন্ধুটিকে কলেজ পড়ুয়া যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান। তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে আশ্বাস দেন যে, কোনও ক্ষতি হবে না। এর পরেই নিধি জানতে পারেন, উত্তরাখণ্ডের একটি সাইবার অপরাধের তদন্তে নেমে তাঁর নামে থাকা বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর পরেই দেরি না করে পুলিশের কাছে গিয়ে সব কথা জানান। রামনগর থানার (Ramnagar police station) সিনিয়র ইন্সপেক্টর গণেশ জাওয়াদওয়াদ তিওয়ারির অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন তদন্ত শুরু হয়েছে।