• সেজেগুজে তৈরি গান্ধীঘাটের উৎসধারা, প্রবেশাধিকার কবে?
    এই সময় | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অশীন বিশ্বাস, ব্যারাকপুর

    শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে গঙ্গার ধারে একান্তে বসে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটানোর জন্য আগামীর ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে চলেছে ব্যারাকপুর ‘উৎসধারা’। সঙ্গে রয়েছে ইতিহাস সমৃদ্ধ ব্যারাকপুর সম্পর্কে জানার সুযোগও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প, ব্যারাকপুর গান্ধীঘাট লাগোয়া উৎসধারা এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। সবকিছু প্রস্তুত হয়ে গেলেও এখনও জনসাধারণের জন্য খুলে না দেওয়ায় কেউ কেউ দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলছেন। যদিও প্রশাসন সূত্রে খবর, গঙ্গার গা ঘেঁষে তৈরি এই পর্যটনকেন্দ্র খুব শীঘ্রই সাধারণের জন্য চালু হয়ে যাবে।

    গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ভার্চুয়ালি উৎসধারা প্রকল্পের উদ্বোধন হয়ে গেলেও এখনও সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। গেটের ভিতরে রয়েছে পুলিশি প্রহরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ত দপ্তর প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মনোরম পরিবেশে রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে উৎসধারার কাজ শেষ করে তা পর্যটন দপ্তরের হাতে হস্তান্তর করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধনের পর দু’মাস কেটে গেলেও সেখানে প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য কত হবে, কবে তা সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও উত্তর এখনও মেলেনি।

    ২০১৬ সালে ব্যারাকপুর সুকান্ত সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে উৎসধারার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক ছিল ব্যারাকপুর মঙ্গল পাণ্ডে ঘাট থেকে অন্নপূর্ণা মন্দির ঘাট পর্যন্ত ১.৮ কিলোমিটার গঙ্গার পাড় ধরে সৌন্দর্যায়ন করা হবে। যেখানে পার্কের সঙ্গে সিপাহি বিদ্রোহের নানা ইতিহাস, অজানা তথ্য তুলে ধরা হবে। জমি জট কাটিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে ১.৮ কিলোমিটারের পরিবর্তে প্রায় ৭৫০ মিটার অংশের মধ্যে গান্ধীঘাট লাগোয়া ফিডার ক্যানাল থেকে মঙ্গলধারা ট্যুরিস্ট লজ পর্যন্ত প্রকল্পটি হয়েছে। প্রবেশদ্বারের মুখে করা হয়েছে স্বদেশি গেট। ঢুকেই ডানদিকে রয়েছে দোতলা ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। যেখানে এগজ়িবিশন রুমে ইতিহাস সমৃদ্ধ ব্যারাকপুরের নানা তথ্য, ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেই রয়েছে ওপেন এয়ার থিয়েটার। তার সামনেই দাঁড়িয়ে ৭০ ফুট উচ্চতার ক্লক টাওয়ার।

    উন্মুক্ত উদ্যানে মঙ্গল পাণ্ডে থেকে নেতাজি, গান্ধীজি, মাতঙ্গিনী হাজরা–সহ একাধিক বীর সেনানির মূর্তি। উঁচুনিচু পথে কৃত্রিম ঘাস, ছোট জলাশয় পার্কের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। গান্ধীঘাট পেরোলেই নজরে আসবে চাঁদের আদলে তৈরি মুন ব্রিজ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সানপ্লাজা। যেখানে সূর্যের ছায়ার সঙ্গে সময় নির্ণয় করা যাবে৷ থাকছে ফুডকোর্ট, ক্যাফেটেরিয়াও। বিটি রোড থেকে গান্ধীঘাট পর্যন্ত ঝাঁ চকচকে রাস্তাও বানিয়ে দিয়েছে পিডব্লিউডি।

    ব্যারাকপুরের পুরপ্রধান উত্তম দাস বলেন, ‘উৎসধারা মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। কয়েকটা টেকনিক্যাল কারণে এখনই সাধারণ মানুষের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শীঘ্রই উৎসধারা চালু হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)