গুজবের জেরে গণপিটুনির দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলা হয়েছিল কেশিয়াড়ির তরুণ ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দকে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে খড়্গপুর গ্রামীণের ভেটিয়ায় ঘটেছিল এই ঘটনা। তুমুল শোরগোল পড়েছিল ওই ঘটনায়। গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করল খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ।
ধৃতদের নাম খোকন মাহাতো এবং দীপঙ্কর মাহাতো। শনিবার তাদের মেদিনীপুর আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এক আধিকারিক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় আরও যারা যুক্ত আছে, তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মোটরবাইক নিয়ে খড়্গপুরে নিজের কাজের জায়গায় যাচ্ছিলেন পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দ। সে দিন তাঁর নাইট ডিউটি ছিল। রাত্রি সাড়ে ৯টা নাগাদ হামলার ঘটনা ঘটে। গুজবের বশবর্তী হয়ে, চোর সন্দেহে সৌম্যদীপকে নির্মমভাবে মারধর করেছিলে খড়্গপুর গ্রামীণের একটি এলাকার বাসিন্দারা। খড়্গপুর গ্রামীণের ভেটিয়া অঞ্চলের বড়া সংলগ্ন এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছিল।
পরে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ পৌঁছে সৌম্যদীপকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই পরিবার তাঁকে ওডিশার ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত ছিল সৌম্যদীপের। গুরুতর জখম ছিলেন সৌম্যদীপ। ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে বছর তেত্রিশের সৌম্যদীপের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাতেই ২৭ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার রাতে খড়্গপুর গ্রামীণের বড়া এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাদের আদালতে পেশ করে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খড়্গপুরের এসডিপিও ধীরজ ঠাকুর।