বাড়িতে সাজ সাজ রব। মাত্র দু’দিন পরেই দাদার বিয়ে। খুশির আমেজ ছিল গোটা পরিবারে। সেই আনন্দের মুহূর্ত নিমেষে বদলে গেল বিষাদে। শনিবার দুপুরে বাঁকুড়ার খাতড়ায় পথ দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় সুশান্ত মুর্মুর (৪২)। তিনি পুরুলিয়ার মানবাজার থানার শ্মশানগড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ দিন তিনি দাদার বিয়ের কাজে বাইক নিয়ে বের হন। খাতড়া-বাঁকুড়া রাজ্য সড়কে একটি লরি সজোরে ধাক্কা মারে সুশান্তর বাইকে। যার জেরেই ঘটে দুর্ঘটনা।
সূত্রের খবর, এ দিন সুশান্ত এক আত্মীয় অসীম মুর্মুর নিয়ে বাইকে করে বাঁকুড়ার হাতিরামপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে তাঁর দাদার হবু শ্বশুরবাড়ি। খাতড়া আদিবাসী মহাবিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছতেই একটি লরি আচমকা পিছন থেকে তাঁদের ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে সুশান্ত এবং অসীম দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। লরির চাকায় সুশান্তর মাথা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হয়েছেন অসীম। দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরাই খবর দেন স্থানীয় থানায়।
খাতড়া থানার পুলিশ এসে সকলকে উদ্ধার করে স্থানীয় খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক সুশান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। অসীম সেখানেই চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মাথাতেই হেলমেট ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল, যে হেলমেট প্রাণ বাঁচাতে পারেনি।
দুর্ঘটনার পরে লরিটি দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে, স্থানীয়রা লরির নম্বর নোট করে রেখেছেন বলে সূত্রের খবর। পুলিশ ইতিমধ্যেই লরি এবং চালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে এনেছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, খাতড়া-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক অত্যন্ত সরু। জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই রাস্তা। সংকীর্ণ পথে প্রতিদিন প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। যার জেরে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে বার বার এই রাস্তা চওড়া করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।