আশিস নন্দী, বনগাঁ
উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া গড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁ মহকুমা। সার পর্বের শুরু থেকেই এই এলাকায় মতুয়াদের একটা বড় অংশের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছিল। সেটাই সত্যি হলো শনিবার নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর। বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের নাম। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই মতুয়া ভোটার। আরও বহু ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’। নাম বাদ পড়ায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মতুয়াদের ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে। পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৭৫ লক্ষ ৮ হাজার ৫৪৮ জন ভোটারের নাম ছিল। এ দিন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৯৭ জনের নাম। মোট ৭৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৯ জনের নাম উঠেছে তালিকায়। কিন্তু এর মধ্যে অনেক ভোটার এখন ‘বিচারাধীন’। যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠই মতুয়া।
সাপ্লিমেন্টারি বাদ দিয়ে শুধু প্রথম পর্বের ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার মতুয়ার নাম বাদ পড়ায় বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মতুয়াদের সিংহভাগ। সার পর্ব শুরু হতেই মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নিজের বাড়ির সামনেই টাকার বিনিময়ে সিএএ ক্যাম্প করেছিলেন শান্তনু। বহু মতুয়া ওই ক্যাম্পে এসে দেদার টাকা খরচ করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হাতেগোনা মতুয়াই নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘বনগাঁ থেকে কত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একজন মতুয়ার নামও বাংলাদেশে রিপোর্ট হবে না। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যারান্টি।’
গত বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা আসনেই জিতেছিল বিজেপি। সেই গাইঘাটা, বাগদা, বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণে এই মুহূর্তে মতুয়াদের ক্ষোভে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতি বুঝে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০০২ সালের পর যে শরণার্থীরা ভারতে এসেছেন, তাদের সমস্যা রয়েছে। তবে ভারত সরকার ৯০ হাজার সিএএ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। সকালেই দিল্লিতে কথা বলেছি। ৯০ হাজারের মধ্যে তিন চারশো নাম হয়তো বাদ যেতে পারে। বাকিরা সবাই ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন।’
বিজেপির বিরুদ্ধে এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবাদ জোরালো করার পরিকল্পনা করছেন তৃণমূলপন্থী মতুয়া সংগঠনের নেতৃত্ব।অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘এতদিন এই মতুয়াদের ভোট নিয়েই শান্তনু ঠাকুর সংসদ, মন্ত্রী হয়েছেন। মতুয়াদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন শান্তনু। মতুয়াদের নাম বাদ পড়ার দায় তাকেই নিতে হবে।’