এই সময়: বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে সম্ভাব্য আইন–শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের চার জেলায় চার সিনিয়র পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হলো। এই চার জন হলেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (সিআইএফ) অজয় নন্দ, আইজি (ট্র্যাফিক) গৌরব শর্মা, ডিআইজি (হেড কোয়ার্টার) রশিদ মুনির খান ও ডিআইজি (কোস্টাল সিকিউরিটি) সুনীলকুমার যাদব। এই চার জনকে যথাক্রমে মালদা, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা, মুর্শিদাবাদ–জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা এবং কোচবিহার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার ও রেঞ্জ আইজি বা জ়োনাল ডিআইজিদের পাশাপাশি এই পুলিশকর্তাদের বাড়তি দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার রাজ্যের ডিজির (আইন–শৃঙ্খলা) জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অজয় নন্দের সঙ্গে সিআইএফের অফিসার ও বাহিনীর পাশাপাশি মালদা জেলার অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই ভাবে গৌরব শর্মার সঙ্গে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অফিসারদের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এসটিএফের কয়েকজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। রশিদের নেতৃত্বে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের অফিসারদের পাশাপাশি র্যাফের দুই সেকশন বাহিনী থাকছে।শনিবারই রাজ্যে ‘সার’–এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দোল ও তারপরে হোলি রয়েছে। এ সবের কথা মাথায় রেখে সব জেলায় আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে বাড়তি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি চারটি আলাদা জেলায় শুধুমাত্র ‘সার’–উত্তর আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা ভেবে চার জন সিনিয়র অফিসারকে ভার দেওয়া হলো।‘সার’–এর হিয়ারিং চলাকালীন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় তুলকালাম বেধেছিল। সেখানে বিডিও অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এ ছাড়া মালদার গাজোলেও বড় গোলমালের ঘটনা ঘটেছিল।
চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশের পরেও নতুন করে এই জেলাগুলিতে অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি এই চারটি জেলাই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সেখানে লিস্ট নিয়ে উত্তেজনা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিনিয়র অফিসারদের নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হলো বলে রাজ্য পুলিশ ডিরেক্টরেট সূত্রের খবর।