• ভোটার তালিকায় নাম বাদ তৃণমূল কাউন্সিলরের
    আজকাল | ০১ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রকাশ হল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর সেই তালিকায় নাম নেই তৃণমূল কাউন্সিলর ও তাঁর মায়ের। নৈহাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা তথা তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার এবং তাঁর মা আরতি সরকারের নাম এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

    ঘটনাটি জানাজানি হতেই হতভম্ব হয়ে পড়েন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সুশান্ত সরকার জানান, তাঁকে হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল এবং তিনি উপস্থিত থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমাও দিয়েছিলেন। তবুও তাঁর এবং তাঁর মায়ের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

    তাঁর অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণভাবে বিজেপির একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নৈহাটি কেন্দ্রের বিধায়ক সনৎ দে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নৈহাটিতে প্রায় ছয় হাজারেরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    বিধায়ক সনৎ দে জানান, দলীয় নির্দেশ মেনে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের নাম যাতে পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

    অন্যদিকে মালদহ জেলায় নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩ জন। জেলায় 'অ্যাডজুডিকেশন' ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জনের। সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জন ভোটারের নাম। যার মধ্যে খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জন ভোটারের নাম। নতুন করে বাদ গেল আরও ১৮ হাজার ২৮০ জনের নাম।

    মালদহ জেলায় এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৩ হাজার জন ভোটার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে এক কোটির বেশি ভোটারের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এসে বলেন, "ওরা যতই ফন্দি করুক বাঙালি ভোটারের নাম কাটুক, বাংলাকে কাটতে পারবে না। আমাদের আদালতের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। বিচারাধীন ভোটারদের নাম কাটতে পারবে না বলেই আমার বিশ্বাস রয়েছে। সংবিধান আমাদের একসঙ্গে থাকার অধিকার দিয়েছে। আমরা ভারতীয় ভোটার। আমরা কেউ রোহিঙ্গা বা 'ঘুষপেটিয়া'(অনুপ্রবেশকারী) নই।"

    ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু মুসলমান একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করে নিজেদের রক্ত দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা এনেছে। অথচ এখন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম মুছে দেওয়া ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে একজনও প্রকৃত ভারতীয় ভোটারের নাম আমরা বাদ দিতে দেব না।দরকার হলে আরও প্রতিবাদ হবে।"
  • Link to this news (আজকাল)