আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক হটস্পট নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রকাশিত হল এসআইআর–এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নন্দীগ্রাম এক নম্বর ও দুই নম্বর ব্লক মিলিয়ে মোট ৩৯৫ জন ভোটারের নাম সরাসরি বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি ১০,৬১৬ জনের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর আগেই খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ১০ হাজার ৫০০ নাম বাদ পড়েছিল। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত নন্দীগ্রামে মোট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়াল ১০,৮৯৫। ফলে স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ায় এই পরিসংখ্যান ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বাতিল হওয়া অধিকাংশ নামই মৃত ব্যক্তি, এসআইআর–এর নোটিস পেয়েও প্রয়োজনীয় নথি জমা না করা ভোটার, অথবা দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
নতুন সংযোজনের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৩২। তবে বিচারাধীন তালিকা থেকে আরও কতজনের নাম বাদ পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংশোধিত ভোটার তালিকা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে মালদহ জেলায় নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩ জন। জেলায় 'অ্যাডজুডিকেশন' ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জনের। সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জন ভোটারের নাম। যার মধ্যে খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জন ভোটারের নাম। নতুন করে বাদ গেল আরও ১৮ হাজার ২৮০ জনের নাম।
মালদহ জেলায় এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৩ হাজার জন ভোটার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে এক কোটির বেশি ভোটারের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এসে বলেন, "ওরা যতই ফন্দি করুক বাঙালি ভোটারের নাম কাটুক, বাংলাকে কাটতে পারবে না। আমাদের আদালতের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। বিচারাধীন ভোটারদের নাম কাটতে পারবে না বলেই আমার বিশ্বাস রয়েছে। সংবিধান আমাদের একসঙ্গে থাকার অধিকার দিয়েছে। আমরা ভারতীয় ভোটার। আমরা কেউ রোহিঙ্গা বা 'ঘুষপেটিয়া'(অনুপ্রবেশকারী) নই।"
ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু মুসলমান একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করে নিজেদের রক্ত দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা এনেছে। অথচ এখন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম মুছে দেওয়া ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে একজনও প্রকৃত ভারতীয় ভোটারের নাম আমরা বাদ দিতে দেব না।দরকার হলে আরও প্রতিবাদ হবে।"