এই সময়: ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘটনায় এ রাজ্যের এক বিচারকের ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চের বিরক্ত মন্তব্য, এই ঘটনা এক জন বিচারকের পদমর্যাদার চরম অপব্যবহার। বিচারককে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এই মামলায় এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট ওই বিচারকের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই রায় শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ওই বিচারক। সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিচারকের দায়ের করা ক্রিমিনাল মামলা খারিজ করার যে রায় দিয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করা হবে না। ওই বিচারকের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করে শীর্ষ আদালত। অবস্থা বুঝে বিচারকের আইনজীবী মামলা প্রত্যাহার করে নেন।
রাজ্যে এডিজে (অতিরিক্ত জেলা–দায়রা বিচারক) পদমর্যাদার ওই বিচারক ২০২২–এর ৬ জানুয়ারি তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর সই জাল করে এবং আদালতের ভুয়ো সিল ব্যবহার করে তাঁর ভাই আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া একটি এলএলএম গবেষণাপত্রে কারচুপি করেছেন। বিচারকের অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট জালিয়াতি ও জাল নথি ব্যবহারের ধারায় মামলা গ্রহণ করে সমন জারি করেন।
বিচারকের ভাই ওই মামলা খারিজে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট ওই ক্রিমিনাল মামলা, ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা সমন খারিজ করে দেয়। রায়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, ব্যক্তিগত বিরোধে বিচারক তাঁর সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। হাইকোর্টের বক্তব্য, কোনও বিচারক ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে সাধারণ নাগরিকের মতোই থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারতেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সমন ইস্যু করানো নিজের বিচারক পরিচয়ের প্রভাব খাটানো। যা উচিত হয়নি। রায়ের প্রতিলিপি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
হাইকোর্টের রায় ওই বিচারক জয়প্রকাশ সিং সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, আইনত একজন বিচারকের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়েরে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। যদিও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর এই যুক্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, বিচারক পদে থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার প্রতি জনসাধারণের বিশ্বাসে আঘাত করে। শীর্ষ আদালত ওই বিচারকের আপিল খারিজে উদ্যোগী হতেই তাঁর আইনজীবী আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।