• জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগ্নেয়াস্ত্র
    এই সময় | ০১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: উদ্ধার হলো হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র। শুক্রবার রাতে ধৃত মহম্মদ ওয়াকিলের বৌবাজারের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয় দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দু’রাউন্ড গুলি।

    শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান সিআইডির আধিকারিকরা। ডিআইজি সিআইডি ইন্দ্র চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিশেষ দল এলাকা ঘুরে দেখেন। ডিআইজি ইন্দ্র চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তের স্বার্থে যা যা প্রমাণ সংগ্রহ করা দরকার, তা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর দিনই তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। শুক্রবার রাতে মেটিয়াবুরুজ এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত হারুন খানকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে মহম্মদ আসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আসলামের দিদি ফারদানা বেগম হারুনের স্ত্রী। ঘটনার পরে ফারদানা আসলামকে ফোন করে জানান, গার্ডেনরিচের বিচালি ঘাট এলাকায় তাঁদের যে ঘর আছে, সেটি যেন হারুনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পিলখানায় ছোটখাটো গণ্ডগোল হয়েছে। তাই কয়েক ঘণ্টার জন্য ওখানে থাকবেন হারুন। তদন্তে নেমে পুলিশ মোবাইলের সূত্র ধরে আসলামকে শনাক্ত করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে শনিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

    পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রোমোটার সফিক খানকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে দুই অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত প্রথমে আশ্রয় নেন ওয়াকিলের বাড়িতে। সেখানেই তাঁরা দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দু’রাউন্ড গুলি জলের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন। সেখান থেকে তাঁরা চলে যান আসলামের ডেরায়। হারুন ও রোহিতের এখনও খোঁজ মেলেনি। এ দিকে, চারদিন কেটে গেলেও পিলখানায় খুন নিয়ে জারি রয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই ঘটনায় সরব বিজেপি।

    বিজেপির হাওড়া সদরের সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ বলেন, ‘এই খুনের পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে। উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হারুনের দলবল এই খুন করেছে। এখন এই খুনের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডির হাতে।’ এ দিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। উত্তর হাওড়া যুব তৃণমূল সভাপতি অরিজিৎ বটব্যাল বলেন, ‘যে ভাবে একটা খুনকে নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। এই খুনের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর কোনও যোগ নেই। বিজেপি দল ও বিধায়ককে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। তবে তাতে লাভ হবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)