ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা চালানো হয় তেহরান ও ইরানের অন্যান্য শহরে মার্কিন–ইজ়রায়েলি বিমান হামলার জবাবে।
বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলির অন্যতম হলো দুবাই এয়ারপোর্ট। সেখানে এই হামলার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যায়, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যাচ্ছেন। ধোঁয়া শনাক্তকারী অ্যালার্ম সক্রিয় হওয়ায় ছাদ থেকে জল পড়ে মেঝেতে জমে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, একটি কনকোর্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। হামলার আগে যাত্রীদের টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
দুবাই ও আবুধাবির আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ব্যাপক সংখ্যক উড়ান বাতিল হয়। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লক্ষাধিক যাত্রী আটকে পড়েন। টার্মিনালে ভিড় জমে যায়, লাগেজ স্তূপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এই সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরেও পড়ে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সহ একাধিক বিমানবন্দরে উড়ান বন্ধ বা বাতিল করা হয়েছে। আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিমানবন্দর ছাড়াও দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেল ড্রোন হামলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুবাই সরকারের মিডিয়া অফিস জানায়, একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগে, তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কোনও হতাহতের খবর নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হলেও আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বিমান হামলা বন্ধ হবে না। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক বোমাবর্ষণ চলবে।