এই সময়, শিলিগুড়ি: পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির (Health Centers) চিকিৎসক নিয়োগের ইন্টারভিউয়ে প্রার্থীদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) চাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব (Goutam Dev)। দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসি প্রামাণিকের সমালোচনা করেন। তিনি সমস্ত ঘটনা দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মনীশ মিশ্রকে জানিয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন। গৌতম বলেন, ‘চাকরির জন্য ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কেন লাগবে? এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়েই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছে। অথচ আমাদেরই স্বাস্থ্য আধিকারিক ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চেয়ে প্রার্থীদের হেনস্থা করবেন, এটা মেনে নেব না। জেলাশাসককে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে বিহিত চাইব। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’
তবে এ ব্যাপারে তুলসি প্রামাণিকের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি। বিরোধের সূত্রপাত পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির চিকিৎসক নিয়োগ নিয়ে। ১৫ জন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তর একটি ইন্টারভিউ নেয়। স্থানীয়দেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে শিলিগুড়ির স্থায়ী বাসিন্দা বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আবেদন করেন। কিন্তু ‘সার’ চলায় তাঁরা ডোমিসাইল সার্টইফিকেট জমা দিতে পারেননি। ইন্টারভিউয়ের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, যাঁরা পাশ করেছেন তাঁরা কেউই স্থানীয় নন। শনিবার অরূপ দাস নামে শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক চিকিৎসক ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে গৌতম দেবকে ফোন করে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিইনি বলে প্যানেলে আমাদের নাম নেই।’
এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘বেতন কম বলে পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে সদ্য পাশ করা চিকিৎসকেরা কেউই দীর্ঘদিন কাজ করতে চান না। এ বার তাই ঠিক হয়, স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। যাতে একজন ছেড়ে দিলে প্যানেল থেকে অন্যদের ডাকা যায়। এখন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চেয়ে তাঁদের বিব্রত করাটা কোনও মতেই মেনে নেওা যায় না।’ গৌতম উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানও। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের কাজও তিনিই দেখেন। অভিযোগ, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে কোনও সমস্যার কথা বলতে গেলেই সমস্যা মেটানোর বদলে তিনি মেয়রকে নানা টেকনিক্যাল কারণ দেখান। তাতেও স্বাস্থ্যকর্তার উপরে বেজায় বিরক্ত মেয়র। তিনি বলেন, ‘আমি টেকনিক্যাল বিষয়ে ঢুকতে চাই না। কেননা, এই বিষয়ে আমি বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু হাসপাতালগুলির সমস্যা তো মেটানো উচিত।’