• রাজীবের বিরুদ্ধে ‘পুরস্কারে’র তত্ত্বে এককাট্টা বিরোধীরা, পাল্টা আক্রমণ তৃণমূলের
    এই সময় | ০১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করে বড় চমক দিয়েছে তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরও মেনে নিচ্ছে সাংসদ হওয়ার জন্য উপযুক্ত মেধা রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তার। কিন্তু মেধা নয়, এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে রাজীব রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একযোগে এই পুরস্কারের তত্ত্ব নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছেন। তৃণমূলও যুক্তি এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে গেরুয়া শিবিরকে পাল্টা আক্রমণ করেছে।

    তৃণমূলের টিকিটে রাজীবের প্রার্থী হওয়া নিয়ে শনিবার শমীক বলেন, ‘রাজ্যসভায় যাওয়ার মতো প্রজ্ঞা ও মেধা রাজীব কুমারের রয়েছে। মেধাসম্পন্ন, আইনজ্ঞ, উজ্জ্বল পুলিশ অফিসার দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতি আনুগত্য জানাতেন। সব জেনেও ইডির কাছ থেকে ফাইল ছিনতাই–এ অংশগ্রহণ করেছেন। এর পুরস্কার তিনি পেয়েছেন।’ সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঋণ শোধ করছেন। আমি এটা আগে বুঝেছিলাম বলে গান বেঁধেছিলাম। সে কারণে উনি (রাজীব) আমার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। কোনও অসুবিধা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন রাজীব কুমার মুখ খুললে বিপদ, তাই মুখ বন্ধ রাখার এটা পুরস্কার।’ দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘রাজীব কুমার এত বছর সমস্ত ভালো মন্দতে ওঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। তাঁকে তো পুরস্কার দেওয়া উচিত। তাই দিচ্ছেন।’ তৃণমূল শুক্রবার রাজীবের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও প্রাক্তন ওই পুলিশ কর্তা এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

    সুকান্ত–শমীককে পাল্টা আক্রমণ করেছে তৃণমূলও। শমীকের কটাক্ষের উত্তরে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতী ঘোষকে কি তাহলে বিজেপি পক্ষপাতিত্ব করার পুরস্কার দিয়েছিল? অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কী কারণে বিজেপি পুরস্কার দিয়েছে? রাজীব কুমার অবসর নিয়েছেন। ভারতী কিংবা অভিজিৎ চাকরি করতে করতে হঠাৎ ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছেন।’ বিজেপি নেতৃত্ব রাজীবের টিকিট পাওয়ার সঙ্গে আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি কিংবা আরও অতীতে বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থার কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে আনায় তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, ‘বিজেপির প্রকাশিত ভিডিয়োতে যাঁকে তোয়ালে মুড়ে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, সেই শুভেন্দু অধিকারীর পাশে বসে দলীয় বৈঠক করতে সুকান্ত মজুমদারের লজ্জা করে না? ওয়াশিং মেশিন বিজেপির কাছ থেকে নীতি নৈতিকতার কথা মানায় না।

    প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বিজেপির নেতাদের ঢঙে পুরস্কারে তত্ত্বে তৃণমূলকে বিঁধেছেন। অধীরের বক্তব্য, ‘রাজ্যসভায় ওঁকে প্রার্থী করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আমলাদের বার্তা দিলেন, তাঁদের এই ভাবে পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু এই চারজন প্রার্থীর মধ্যে কোনও সংখ্যালঘু মুখ আমরা দেখলাম না।’ অধীরের পর্যবেক্ষণ নিয়ে অরূপ বলেন, ‘ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয়ের যন্ত্রণা এখনও অধীর চৌধুরী ভুলতে পারছেন না। সেই কারণে বিজেপির সুরে কথা বলছেন।’

    সিপিএম নেতৃত্ব রাজীবের পাশাপাশি মেনকা গুরুস্বামীকে টিকিট দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপি রঞ্জন গগৈ–কে রাজ্যসভায় প্রাইজ পোস্টিং দিয়েছিল। রাজীব তেমনই প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছেন। মেনকা গুরুস্বামী যে আরএসএস–র এটা সবাই জানেন।’ মেনকার সঙ্গে সংঘের সম্পর্ক নিয়ে সুজন প্রশ্ন তোলায় অরূপের পাল্টা বক্তব্য, ‘সিপিএম নেতারা ভুলে গিয়েছেন যে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাবা নির্মল চট্টোপাধ্যায় ছিলেন হিন্দু মহাসভার প্রতিষ্ঠাতা নেতা। তিনি হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে সাংসদও হয়েছিলেন।’

  • Link to this news (এই সময়)