• খাবারের দোকানে পানীয় জলে নানা গরমিল, জরিমানা করে পুরসভার আয় ১৪ লক্ষের বেশি
    এই সময় | ০১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: কলকাতার নানা প্রান্তে খাবারের দোকানে কেমন পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে? তার নমুনা পরীক্ষা করে ভালো মতো গরমিল পেয়েছে কলকাতা পুরসভা। যার সূত্রে জরিমানা বাবদ ১৪ লক্ষেরও বেশি টাকা ঢুকেছে ভাঁড়ারে। সূত্রের খবর, পুরসভার জল পরীক্ষার সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে ২,৬১৯ টি জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

    পুর–স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে, নমুনাগুলির মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন পাইস হোটেল থেকে নামী রেস্তোরাঁর জল রয়েছে। এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানান, ল্যাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিটি নমুনা। তারই বেশ ক’টিতে গরমিল মিলেছে। কিছু নমুনায় ফুড লাইসেন্সের শর্ত মেনে গুণগত মানও বজায় রাখা হয়নি বলে খবর। যাঁদের নমুনায় এ ধরনের গরমিল পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের থেকে জরিমানা এবং রিপোর্ট সংগ্রহের সময়ে দোকানদারদের চার্জ বাবদ মোট ১৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেছে পুরসভা। কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, ‘জলের নমুনা পরীক্ষা করে বেশ ক’বছর ধরেই রাজস্ব আসছে পুর–কোষাগারে। এই কাজে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়।’

    তবে পুর–তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের তুলনায়, ২০২৫–২৬–এ সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে জলের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমেছে, রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। ২০২৪–এর ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩,১৮৫ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, রাজস্ব হিসেবে এসেছিল ২১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩০০ টাকা। তবে পুরসভার একটি সূত্রের খবর, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের প্রায় সওয়া তিন মাসের হিসেবের উল্লেখ নেই। সেটা ধরলে পুরসভার অন্তত ২৪ লক্ষ টাকা আয় হওয়ার কথা। স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জলের নমুনাও রয়েছে। সেখান থেকে রাজস্ব বাবদ পুরসভার কোনও আয় হয়নি, কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের জলের নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা হয়।’

    এ বাদে গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয়ের নামে যাতে দূষিত জল, শিল্পে ব্যবহৃত বরফ না মেশানো হয়, সে ব্যাপারেও অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের।

  • Link to this news (এই সময়)