অর্ঘ্য ঘোষ, ময়ূরেশ্বর
নানা প্রতিকূলতায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই স্কুলছুট হয়ে পড়েন ওঁরা। তার পরে শিক্ষাঙ্গনমুখী হতে দেখা যায়নি তাঁদের। দীর্ঘদিন বাদে আবার স্কুলে নাম লেখাতে ছোটাছুটি শুরু করেছেন তাঁরা। সৌজন্য বাংলার 'যুবসাথী' প্রকল্প।
সাম্প্রতিক বাজেটে ২১-৪০ বছর বয়সি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য। ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমান শিক্ষিতরা পাঁচ বছর ওই সহয়তা পাবেন। ওই ঘোষণার পরে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লম্বা লাইন পড়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল এবং রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন মাধ্যমিক স্তরের স্কুলছুটরা। একসময়ে মূলত আইসিডিএস বা সমতুল কাজের জন্য এই ধরনের মুক্ত বিদ্যালয়ে স্কুলছুটদের ভর্তির আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে যা অনেকটা থিতিয়ে আসে। বেশ কিছু স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ। কিন্তু এখন আবার এই ধরনের পড়ুয়াদের আনাগোনা বেড়েছে।
বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর হাইস্কুলে ২০০২-এ মাধ্যমিক এবং ২০০৪-এ উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে মুক্ত বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরু হয়। মাধ্যমিকে জুন এবং ডিসেম্বরে ভর্তি নেওয়া হয়। উচ্চ মাধ্যমিক নেওয়া হয় জুলাইয়ে। ২০২৫-এ এইচএসে ২৯ এবং মাধ্যমিকে ৩১ জন ভর্তি হয়। কোটাসুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন দাস বলেন, 'যুবসাথী প্রকল্প ঘোষণার পরে প্রতিদিন ৭-৮ জন পড়ুয়া ভর্তি হতে আসছে। এখনও পর্যন্ত ৩৫ জন যোগাযোগ করেছে।' একই বক্তব্য সিউড়ির পুরন্দরপুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শান্তনু আচার্যেরও।
রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতেও 'যুবসাথী'র প্রভাব পড়েছে। ময়ূরেশ্বরের লোকপাড়া হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত ভট্টাচার্য, লাভপুরের দাঁড়কা হাইস্কুলের হেডমাস্টার বাণীব্রত মণ্ডল বলেন, 'রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনেকদিন আগে অষ্টম শ্রেণি থেকে স্কুলছুট হওয়া পড়ুয়ারা রোজ শংসাপত্র নিতে আসছে।'
২০০৬-এ অষ্টম শ্রেণিতে স্কুলছুট হন সাঁইথিয়ার জুনিদপুরের ৩০ বছরের তাপসী মণ্ডল। ময়ূরেশ্বরের কুলিয়ারার ২৬ বছরের শুভজিৎ দাস ২০১৯-এ নবম শ্রেণিতে স্কুলছুট হন। তাঁদের কথায়, 'স্কুলছুট হওয়ার পরে শংসাপত্র কোনও কাজে লাগবে ভাবিনি। 'যুবসাথী' প্রকল্পের জন্য শংসাপত্র তুলে মুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।'
এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক অধীরকুমার দাসের মতে, 'বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে অনুদানের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। তবে 'যুবসাথী' প্রকল্পে মাসিক অনুদানের পরিবর্তে পাঁচ বছরের টাকাটি একসঙ্গে দেওয়া হলে বেকাররা কোনও ক্ষুদ্র ব্যবসা করে স্বনির্ভরতার স্বাদ পেতেন। পাশাপাশি পাঁচ বছর পরে বিনা সুদে টাকা ফেরতের নিয়ম বেঁধে দিলে বেকারদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।'