• স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা থেকে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম, দিশা দেখাচ্ছে নয়াপুট সুধীরচন্দ্র হাইস্কুল
    এই সময় | ০১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, কাঁথি: স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা থেকে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম (Digital Announcement System)। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে চলেছে এই স্কুল। আর পাঁচটা স্কুলের পরিচিত যে ছবি আমাদের চোখে ধরা পড়ে, নয়াপুট সুধীরচন্দ্র হাইস্কুলে এলে সেই চোখে ধাক্কা লাগে বইকি। সমুদ্র উপকূলবর্তী মৎস্যজীবী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুল প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে বদলাচ্ছে। যা জেলায় অন্য স্কুলের চেয়ে একে আলাদা করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এমন উদ্যোগ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ছাত্রছাত্রীরাই স্কুলের প্রাণ। স্কুলের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতেই এমন উদ্যোগ। মৎস্যজীবী (Fisherman) অধ্যুষিত এই এলাকায় পড়াশোনার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়াতে স্কুলের এমন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

    গ্রামের স্কুল হলেও খাতায় কলমে এখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১২০০। তবে নিয়মিত স্কুলে আসার আগ্রহ অনেকটাই কম তাদের মধ্যে। বছর দুই আগেও পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছিল হতাশাজনক। যে কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে এক সময়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত স্কুলে আসার জন্যে ‘হয় পড়, নয় স্কুল ছাড়’ ঘোষণা করতে হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি একাধিক পদক্ষেপ করার পর নিয়মিত উপস্থিতির হার অনেক বেড়েছে।’

    তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে নিয়মিত হাজিরা, অভিভাবকদের স্কুলের পরিস্থিতির কথা জানানোর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা কখন স্কুলে আসছে বা কখন স্কুল থেকে চলে যাচ্ছে তা জানার জন্য বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। স্কুলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে ক্লাসঘরের দেওয়ালকে রঙ দিয়ে ট্রেনের কামরার রূপ দেওয়া হয়েছে। এ বার স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা থেকে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ঘড়ি দেখে ক্লাসের সময় শেষ হওয়ার পর আর ঘণ্টা বাজাতে হবে না। সময় হলেই ঘন্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে উঠবে। শুধু তাই নয়, প্রার্থনার সময়ে, টিফিন শুরু ও শেষ কিংবা কোন পিরিয়ড কখন শুরু হচ্ছে তার ঘোষণাও হবে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। যেমন অনেকটা রেল স্টেশনে হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হবে এই নতূন সিস্টেমের। তারঁ দাবি, স্কুলের এমন নানা আকর্ষণীয় পদক্ষেপে পড়ুয়াদের মধ্যে স্কুলের আসার আগ্রহ বেড়েছে। কমেছে স্কুলছুট। আর কী বলছে পড়ুয়ারা! স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা থেকে ডিজিটাল অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গিয়েছে। প্রদীপ মণ্ডল নামে এক ছাত্র বলে, ‘স্কুলে ট্রেনের কামরার মতো ক্লাসঘর পেয়ে খুব ভালো লাগছে। শুনেছি আরও নতুন অনেক কিছু হতে চলেছে। আমরাও নতুন কিছু দেখতে পাব।’

  • Link to this news (এই সময়)