২ তৃণমূল বিধায়কের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' লিস্টে
আজকাল | ০১ মার্চ ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলার দুই তৃণমূল বিধায়ক আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে প্রথম দফায় ভোটারদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন এবং জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকের নাম নেই। তৃণমূলের এই দুই বিধায়কের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' (বিবেচনাধীন) তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের মধ্যে যদি এই দুই বিধায়কের নাম ভোটার তালিকায় না ওঠে সেক্ষেত্রে দু'জনেরই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে সংশয় তৈরি হবে। যদিও বিধায়ক ঘনিষ্ঠরা আশাবাদী এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা দ্রুততার সঙ্গে এই দু'টি 'কেস' সমাধান করে দেবেন এবং পরবর্তী যে তালিকা প্রকাশ হবে সেখানে দুই বিধায়কের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে।
জঙ্গিপুর থেকে নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কের জাকির হোসেন জঙ্গিপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথের ভোটার। শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে জাকির হোসেনের স্ত্রীর নাম থাকলেও বিধায়কের একমাত্র পুত্র এবং দুই কন্যার নাম ভোটার তালিকায় নেই বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন জঙ্গিপুরের ভোটার হলেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলেমেয়েরা সুতি -২ ব্লকের ভোটার।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গৌতম ঘোষ বলেন, 'জঙ্গিপুর বিধানসভা এলাকার অবস্থিত ২৭৫ টি বুথের মধ্যে ২০০ টি বুথেই ত্রুটিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। কোথাও জীবিত ভোটারকে মৃত ভোটার করা হয়েছে আবার কোথাও বহুদিন আগে মৃত ভোটার এখনও ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছেন। আহিরণ পঞ্চায়েতের রশুনপুর গ্রামে ফুদানবালা দাস নামে এক ভোটার ৪ বছর আগে মারা গিয়েছেন অথচ তাঁর নাম শনিবার প্রকাশিত ভোটার তালিকায় রয়েছে। এরকম অনেক ত্রুটি আমাদের নজরে এসেছে।' গৌতমবাবু বলেন, 'জাকির হোসেন এবং তাঁর ছেলে ও মেয়েদের নাম এখনও 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে। তবে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের বিশ্বাস রয়েছে। সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন করে জাকির হোসেনের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেবেন বলেই আমরা বিশ্বাস রাখছি।'
অন্যদিকে জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকের নামও শনিবার প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নেই। তাঁর নাম বর্তমানে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'কাটাবাড়ি অঞ্চলের মালোপাড়ার একটি বুথের আমি ভোটার। সেখানে ১০২৮ জন ভোটার রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে। আমার মোট পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়ের নাম ভোটার তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি সহ বাকি তিন ভাইয়ের নাম এখনও 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে। আমার পরিবারের আরও অনেকের নাম ওই তালিকায় রয়েছে।'
তৃণমূল বিধায়ক জানান, 'আমার বাবার নাম কৈফতুল্লা মন্ডল। যদিও আমি নিজের পদবি লিখি 'রাজ্জাক'। আমার ধারণা পদবী বিভ্রাটের কারণে আমার নাম 'আন্ডার এডজুডিকেশন' তালিকায় রয়ে গিয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা এই 'ত্রুটি' সংশোধন করে দ্রুত আমার নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেবেন বলে আমি আশাবাদী। উপযুক্ত সমস্ত নথি আমি ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি।'
তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, 'জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে ১৩টি নথির উল্লেখ করেছিল সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এত বিভ্রাট তৈরি হতো না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার এডমিট কার্ডের মতো নথি কখনও গ্রহণ করেছে আবার কখনও সেটা বাতিল করেছে।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন যদি বিজেপির হয়েই কাজ করতে চায় তাহলে তারা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করে অমিত শাহকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা করে দিতে পারে।' এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মুর্শিদাবাদ জেলার এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, ' শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে তিনটি পৃথক বিভাগ রয়েছে। 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় যে সমস্ত ভোটারের নাম রয়েছে সেই 'কেস'গুলো এসডিও অফিসে বসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা সমাধান করছেন। আমাদের ধারণা আগামী ৯ মার্চ আর এক দফা তালিকা ঘোষণা করা হবে। সেই সময় 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় থাকা প্রচুর ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় উঠে যাবে।' তিনি জানান, 'নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গেলেও ভোটে লড়ার সমস্ত শর্ত পূর্ণ করলে যে কোনও ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে নির্বাচকের চূড়ান্ত তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও যদি না ওঠে সেক্ষেত্রে তিনি ভোটে লড়তে পারবেন কিনা সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় নির্বাচন কমিশনেরই রয়েছে'