চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বেশ কয়েকজন ভোটারের (Voter) নাম। বিচারাধীনের আওতায় রয়েছেন আরও অনেকে। চূ়ড়ান্ত তালিকায় নাম নেই দেখে, বার বার বিএলওকে (BLO) ফোন করছিলেন ভোটাররা। কী জবাব দেবেন? সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ওই বিএলও-র। এমনটাই অভিযোগ পরিবারের। মৃতের নাম মহম্মদ তাহির (৫০)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি (Kamarhati) পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার বাগান এলাকার বাসিন্দা।
রাজ্যে SIR-প্রক্রিয়া শুরুর পরে থেকেই একের পর এক বিএলও-এর (BLO) মৃত্যুর খবর সামনে আসে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। তার পরেই মৃত্যু হলো আরও এক বিএলও-র। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ তাহির ৬৯ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্ব ছিলেন। পাশাপাশি ৫৭ থেকে ৬৪ নম্বর বুথের সুপারভাইজ়ার হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে একাধিক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকার অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে লাগাতার ফোন আসতে থাকে। তাতে মানসিক চাপ অনুভব করেন তিনি। অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকায় মহম্মদ তাহিরের নিজের নামও বিচারাধীন ভোটার হিসেবে আসায়, আরও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও বারবার ফোন আসায় মানসিক ভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন বলে, দাবি পরিবারের।
রবিবার সকালে বাড়ির সামনেই বসে ছিলেন তিনি। তখনই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহির।পরিবারের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই বিষয়ে, মৃতের প্রতিবেশী নিজামুদ্দিন বলেন, ‘বিএলও-র দায়িত্বের পাশাপাশি কয়েকটি বুথের সুপারভাইজ়ার ছিলেন তাহির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক ফোন আসছিল। অনেকেই নাম বাদ বা সংশোধন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। তার উপর ওঁর নিজের নামও বিচারাধীন ছিল। কমিশনের চাপ, ভোটারদের চাপ একজন মানুষ আর কত চাপ সহ্য করবে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতা। তিনি জানান, ‘তাহির স্থানীয় মুসলিম ইউপিএস স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে তিনি প্রবল চাপে ছিলেন। মানসিক চাপ ছিল। সেই চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’ এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।