মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভোট ঘোষণা করতে হলে এই সময়ের মধ্যে ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি করার কাজ কী করে সম্ভব? রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । তাঁর দাবি, আদতে ১৪ লক্ষ ‘Under Adjudicated’ নাম পাঠানোর কথা ছিল জুডিশিয়াল অফিসারদের। সেখানে ‘ইচ্ছে করেই’ ৬০ লক্ষের বেশি নাম পাঠানো হয়েছে। এমনকী নথি যাচাইয়ের কাজের মাঝে জুডিশিয়াল অফিসারদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন অভিষেক। মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসবেন বলেও এ দিন জানান অভিষেক।
শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (প্রথম পর্যায়) প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে খসড়া তালিকাতেই বাদ গিয়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। মূলত, মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। SIR-এর শুনানি পর্বের পরে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘বিচারাধীন’ রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। অভিষেকের যুক্তি, ‘জুডিশিয়াল অফিসাররাও তো মানুষ। ওঁদের কাছে তো কোনও জাদুকাঠি নেই বা কোনও সফটওয়্যার নেই। ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন রয়েছে, সব মিলিয়ে ৫০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার কাজ করছেন। একদিনে ২০ থেকে ৩০টি কেস নিষ্পত্তি হলে দিনে দশ-পনেরো হাজার কেস হবে। ৬০ লক্ষ কেস নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে। তা হলে নির্বাচন হবে কী করে?’
নির্বাচন কমিশনের কাজের পিছনে বিজেপির ‘অঙ্গুলিহেলন’ রয়েছে বলে এর আগেও সরব হয়েছেন অভিষেক। এ দিন তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি চায় না নির্বাচন এখন হোক। বিজেপির একটা অংশ বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তারা জানে নির্বাচনে গেলে ভোকাট্টা হয়ে যাবে।’
অভিষেকের নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও। অভিষেক বলেন, ‘আমরা যখন মিটিং করতে গিয়েছিলাম, বলা হয়েছিল খসড়া তালিকায় নাম উঠলে তাঁর নাম ডিলিট হবে না। কারণ ম্যাপিং হয়ে গিয়েছে। কিছু ছোটোখাটো ভুল হতে পারে, নথি দেখালে মিটে যাবে। নাম থাকার পরেও যদি আপনি ডিলিট করেন, মিটিংয়ে যা বলেছিলেন সেটা প্রকাশ্যেও আনব, সুপ্রিম কোর্টেও জমা দেব। পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে জুডিশিয়াল অফিসারদের ডেকে SOP তৈরি করে দেওয়া হলো কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, ‘এখানে যে পর্যবেক্ষকরা এসেছেন, তাঁদের ফোন থেকে কল করে জুডিশিয়াল অফিসারদের থ্রেট দিয়েছে। আমাকে ২০ জন জুডিশিয়াল অফিসার এ কথা জানিয়েছেন। কে এক্তিয়ার দিয়েছেন?’
SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে এর আগে মামলা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালও করেছেন তিনি। এ বার আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসবেন তিনি বলে ঘোষণা করেন অভিষেক। উল্লেখ্য, মেট্রো চ্যানেলেই সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে অনশন করেছেন মমতা। SIR-এর এই নানা অসঙ্গতি আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টেও পেশ করা হবে বলে জানান অভিষেক। পাশাপাশি, যাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে, তাঁদের নথি সংক্রান্ত বিষয়ে দর্লীয় কর্মীদের সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিষেক।