লক্ষ্য রাজ্যের পালাবদল। রবিবার, ১ মার্চ থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করল বিজেপি। এই কর্মসূচির সূচনার দিন গড়বেতা এবং ঝাড়গ্রামে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। কৃষ্ণনগরের নবদ্বীপে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা এবং কুলটিতে পরিবর্তন যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি— বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আক্রমণে ছিল প্রধানত দু’টি ইস্যু। জনসংযোগের লক্ষ্যে বাংলায় প্রথম জেলায় জেলায় এই রথযাত্রার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বঙ্গ বিজেপি। এক দিকে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, ‘বাংলার এক সময়ের গৌরবোজ্জ্বল শিল্প ও সংস্কৃতি আজ বিপন্ন। তৃণমূল সরকারের ভুল নীতি এবং দুর্নীতির কারণে রাজ্যের যুবসমাজ কর্মসংস্থানহীন হয়ে পড়ছে।… কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প পাঠালেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন না।’
অন্য দিকে, রাজ্যে পরিবর্তনের বিষয়ে দৃঢ়তা দেখা যায় বিজেপির নব্য সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের গলাতেও। কোচবিহারের সভা থেকে নিতিন বলেন, ‘আমরা ৪ মার্চ সারা দেশে হোলি উৎসব পালন করব। তেমনই ভোটার পরে বিজেপির বিজয় উৎসবের জন্য ফের হোলি পালিত হবে গোটা বাংলায়।’ অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা করতেই রাজ্যের শাসকদল SIR-এর বিরোধিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কুলটির সভা থেকে বিজেপি নেত্রী অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, ‘গোটা দেশকে একসময় পথ দেখাতো পশ্চিমবঙ্গ, আর আজ সেই পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতির বেড়াজালে আটকে গেছে - উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এই সবের পরিবর্তন করতে হলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতেই হবে।’
তৃণমূল বিরোধী ভোটকে একত্রিত করার ডাক দেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ থেকে তাঁর বক্তব্য, ‘সিপিএমকে দেওয়া একটি ভোট শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই সুবিধা দেয়। ভেবে ভোট দিন, ভবিষ্যতের কথা মনে রেখে।’ আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত বলে বর্ণনা করেন রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো জীবন্ত জীবাশ্ম। তৃণমূল চলে গেছে, তৃণমূল চলে যাবে, তৃণমূল যাচ্ছে এটাই পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ।’
উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করবে বিজেপি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২ মার্চ ইসলামপুর থাকবেন নিতিন নবীন, আমতায় থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, হাসনে থাকবেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, সন্দেশখালিতে থাকবেন শিবরাজ সিং চৌহান।