• কোচবিহার থেকে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা
    আজকাল | ০২ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। রবিবার বেলা প্রায় ২টা নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে সড়কপথে শহরের রাসমেলা মাঠে আয়োজিত সভামঞ্চে আসেন। সভাস্থলে তাঁকে স্বাগত জানান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, মনোজ টিগগা সহ বিজেপির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।রবিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা সভাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে কর্মীদের সভায় আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

    জানা গিয়েছে, একটি গাড়িকে রথের আদলে সাজিয়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করা হয়। সেই রথে পতাকা দেখিয়ে যাত্রার সূচনা করেন নীতিন নবীন। ৫ মার্চ কোচবিহার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে এই রথ। সূচি অনুযায়ী, কোচবিহার দক্ষিণ, কোচবিহার উত্তর, মাথাভাঙ্গা ও শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে ৬ মার্চ তুফানগঞ্জ ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র অতিক্রম করবে। কোচবিহারের মোট সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র পরিক্রমা শেষে রথটি আলিপুরদুয়ার জেলার পথে রওনা হবে।

    কোচবিহারের সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নে রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নরম মনোভাব নিচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টি উপেক্ষা করছে। তাঁর কথায়, “বাংলার নাগরিকদের অধিকার কোনওভাবেই কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে কোচবিহারের মানুষ অনুপ্রবেশের প্রভাব সরাসরি অনুভব করেন। এই সমস্যা সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ দরকার, যা একমাত্র নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারই নিতে সক্ষম।”

    নীতিন নবীন আরও দাবি করেন, কেন্দ্র সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা রাজ্যের মানুষ পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিজেপি বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে মানুষের সমস্যা তুলে ধরা এবং বিকল্প প্রশাসনের বার্তা দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    কোচবিহারের সভামঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই পরিবর্তন যাত্রা কোনও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এক সৎ প্রয়াস। বাংলার মানুষ আজ দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলায় ক্লান্ত। রাজ্যের যুবসমাজ কাজের অভাবে হতাশ, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনতে চাই, তাঁদের সমস্যা বুঝতে চাই এবং বিকল্প পথ দেখাতে চাই। বিজেপি বিশ্বাস করে, পরিবর্তন শুধু স্লোগানে নয় মানুষের আস্থা ও সমর্থন নিয়েই সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই এই যাত্রা, বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।”

    সভা থেকে নিশীথ প্রামাণিকও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। মানুষের সমর্থন নিয়েই বিজেপি পরিবর্তনের লড়াই লড়বে বলে দাবি করেন তিনি।

    কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি কোচবিহার থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করলেও আজকের সভাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের সমর্থন তাদের সঙ্গে নেই। বাইরে থেকে লোক এনে সভা ভরানোর চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়েনি। মাঠের ফাঁকা আসনই প্রমাণ করে দিয়েছে।"

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে ঘিরে কর্মীদের উৎসাহ যেমন চোখে পড়েছে, তেমনই শাসক-বিরোধী তরজাও আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই সভা থেকে।
  • Link to this news (আজকাল)